বিশ্বকাপে ফাইনালের আগে ‘আরেক ফাইনাল’

এটি যেন ফাইনালের আগের ফাইনাল। ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল আগে থেকেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। অন্যদিকে কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল -কে যেভাবে অনায়াসে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা, তাতে অন্য দলগুলোর জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা গেছে।

আজ (রোববার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ–এর সুপার এইট পর্বে। জয়-পরাজয়ে এখনই সেমিফাইনাল নির্ধারিত না হলেও ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে রান তাড়ায় দীর্ঘ সময় আধিপত্য দেখিয়েও হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করে তারা। ফলে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াই এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। দুই অপরাজিত দলের এই ব্লকবাস্টার ম্যাচ তাই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

২০২৪ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের টানা ১২ জয়ের রেকর্ড এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ৪৫ জয় (৪ হার, ২ ফলহীন) দলটির আধিপত্যই প্রমাণ করে। এত সাফল্যের পরও প্রত্যাশার চাপ এত বেশি যে বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

‘ব্যাটিং বোমা এখনও পুরোপুরি ফাটেনি’ এমন মন্তব্যের জবাবে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন, ‘আমরা ১৯০ করেছি (নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৯৩), আর কী দরকার!’

অভিষেককে ঘিরে আলোচনা

অভিষেক শর্মার ফর্ম নিয়ে আলোচনা চলছে জোরেশোরে। টুর্নামেন্টে এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি এই ওপেনার; তিন ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন। তবে সূর্যকুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেকের জায়গা নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। ‘গত বছর সে আমাদের টেনেছে, এবার আমরা তার জন্য করব।’

সাঞ্জু স্যামসনকে দলে আনার জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তিলক ভার্মার জায়গায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়েছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্যামসনের রেকর্ড বেশ উজ্জ্বল পাঁচ ইনিংসে ১৯০ স্ট্রাইক রেটে দুটি সেঞ্চুরিসহ ২৫৩ রান।

কৌশলের লড়াই

ভারতের বিপক্ষে অফ-স্পিনার দিয়ে বোলিং শুরু করা এখন অনেক দলের কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা কি এইডেন মার্করাম–কে দিয়ে সেই পথ অনুসরণ করবে? বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল থাকলেও উইকেটকিপার-ব্যাটার কুইন্টন ডি কক কৌশল প্রকাশ করতে চাননি।

পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনা

মুখোমুখি লড়াইয়ে বিশ্বকাপে ভারত ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে। সামগ্রিক হিসেবেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবধান ৭-২। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম–এ, যেখানে কন্ডিশনের সঙ্গে দুই দলই পরিচিত।

দুই দলই বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে। তাই ৮ মার্চের সম্ভাব্য ফাইনালে আবারও যদি আহমেদাবাদে তাদের দেখা মেলে যেমনটি দুই বছর আগে হয়েছিল তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

-এমইউএম