কুবিতে কক্ষ দখল নিয়ে ছাত্রদলের তাণ্ডব: আহত ৩

কুবি ও ছাত্রদলের লোগো, আাতিকুর রহমান
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে অবৈধভাবে কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিজ সংগঠনের কর্মীদের মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতাসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে হলের ছাদে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজনের নাকের হাড় ভেঙে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, ১৭ ফেব্রুয়ারি কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান কোনো নিয়ম না মেনেই হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন এবং সেখানে আরও কয়েকজনকে অবৈধভাবে তোলেন। পাশাপাশি ২০৪ নম্বর কক্ষেও দলীয় প্রভাবে অন্য একজনকে সিট দেওয়া হয়। এই অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এবং ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে বাগবিতণ্ডার জেরে গতরাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে হলের ছাদে অবস্থানকালে আতিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের আবির, অর্থনীতি বিভাগের নিবিড় এবং অ্যাকাউন্টিং বিভাগের কাব্য হামলায় আহত হন।
ছাত্রদল নেতা আতিকুর রহমান ও তার সঙ্গীদের ঘুসিতে সৌরভ কাব্যের নাক ফেটে যায় এবং প্রচণ্ড রক্তপাত শুরু হয়। তাকে তাৎক্ষণিক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কাব্যের নাকের হাড় ভেঙে গেছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান (৮ম ব্যাচ), সাবেক শিক্ষার্থী সাইফুল (৮ম ব্যাচ), তরিকুল (১২তম ব্যাচ) এবং সিফাত (১৮তম ব্যাচ)। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্যাম্পাসে অছাত্র ও সাবেক শিক্ষার্থীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তারা ‘বিজয় চব্বিশ’ হলসহ বিভিন্ন হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের তুলে হল দখলের চেষ্টা করছে।
ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা হল ছেড়ে পালিয়ে যান। হল প্রাঙ্গণে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে।
প্রঅধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সাথে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ জানান, বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সমাধান করা হবে।
লামিয়া আক্তার