রমজানের পবিত্রতায় সেজেছে ঢাবির হল: শিক্ষার্থীদের মাঝে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

বর্ণাঢ্য সাজে শহীদ ওসমান হাদী হল। ছবি : সাবরিনা রিমি

পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে এক অনন্য সাজে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো। দীর্ঘকাল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে ক্যাম্পাসে রমজানের এমন উৎসবমুখর আমেজ না থাকলেও, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবার হলের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বারান্দা-সবই ঝকঝকে আলোকসজ্জা ও ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতীকে ঝলমল করছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পহেলা রমজানের সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কবি জসীমউদ্‌দীন হল, স্যার এ এফ রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলসহ প্রায় প্রতিটি হলের প্রধান ফটকে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে। গেটগুলোতে শোভা পাচ্ছে ‘রমজান মোবারক’ সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। ইসলামী ঐতিহ্যের ধারক মিনার, চাঁদ-তারা ও নান্দনিক নকশার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই পবিত্র মাসের তাৎপর্য।

বর্ণিল সাজে বিজয় একাত্তর হল। ছবি : সাবরিনা রিমি

এবারের সাজসজ্জার বিশেষত্ব হলো, শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত হল সংসদ এবং হল প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা। কবি জসীমউদ্‌দীন হল সংসদের ভিপি ওসমান গণি বলেন, “রমজান হলো ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের মাস। এই আলোকসজ্জার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইফতার, তারাবি ও ধর্মীয় কাজে অনুপ্রাণিত করা এবং ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।”

শহীদ ওসমান হাদী হলের এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহির জানান, বাজেট সীমাবদ্ধতা থাকলেও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন স্পন্সর সংগ্রহ করে যতটা সম্ভব উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন।

হলগুলোর এই সাজসজ্জা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহাদিয়াব হোসেন বলেন, “আলোর এই কারুকাজ রমজানের পবিত্রতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি আমাদের ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃিতে এক নতুন মাত্রা।” তবে হলগুলোতে উৎসবের আমেজ থাকলেও পরিবার থেকে দূরে থাকায় সূর্য সেন হলের মোহাম্মদ হাবিবের মতো অনেক শিক্ষার্থীর মনে খানিকটা বিষণ্ণতাও খেলা করছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, বিগত বছরগুলোতে রমজানকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন করতে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হতো। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পালন করতে পারছেন। কেবল আলোকসজ্জাই নয়, অনেক হলে ‘প্রোডাক্টিভ রমাদান’ শীর্ষক আলোচনা ও ‘চানরাত-ই আমাদ’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

লামিয়া আক্তার