দীর্ঘ ৫৩ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মতো বিশাল রাজনৈতিক দলকে চ্যালেঞ্জ করে বাবার হারানো আসন উদ্ধার করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত্বব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে তিনি বিএনপি – জমিয়ত জোট প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবীকে পরাজিত করে গড়লেন ইতিহাসের এক চমকপ্রদ অধ্যায়। নির্বাচনের ফলাফলের কাগজ হাতে নিয়েই তিনি চলে যান, দাদা-দাদি ও বাবার কবরের পাশে। সেখানে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এই আনন্দ আর উল্লাসে ভাসছে সরাইল – আশুগঞ্জ, চান্দুরা ও বুধন্তির আপামর জনগন।প্রিয় নেতা কর্মী সমর্থকদের অভিনন্দন আর ফুলেল শুভেচছা ভাসছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-২ সরাইল – আশুগঞ্জ সংসদীয় ২৪৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে ময়দানে কাজ করে আসছিলেন। জোটের সাথে আসন ভাগাভাগি করতে গিয়ে দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ- সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হারিব কে। এতে তিনি মনের দুঃখে চাঁপা ক্ষোভ নিয়ে দলীয় জোটের প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্ধী প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত হওয়ায় জোটের প্রার্থী হিসেবে জেলা ও উপজেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মী সমর্থকরা খেজুরগাছের পক্ষ নিয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায়। এদিকে পদধারী ও পদবঞ্চিত অনেক নেতা কর্মীরা স্রোতের বিপরীতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করেন। আর এ অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে শতাধিক নেতা কর্মী হয়েছেন দল থেকে বহিষ্কার।
নানান প্রতিকূলতার আর প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে মুল লক্ষ্যে এগুতে থাকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এক সময় নির্বাচনী এলাকায় ১৯ টি ইউনিয়নে রুমিন ফারহানা পক্ষে তৈরি হয় গনজোয়ার। প্রতিটি উঠান বৈঠকে সভা সমাবেশে হাজির হয় হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থক নারী ও পুরুষ। হাটে ঘাটে মাঠে পথে প্রান্তরে হাঁসের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকায়। জয় লাভ করাটা যেন এখন সময়ের ব্যাপার। অবশেষে আসে মাহেন্দ্রক্ষণ।
বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭ ঘটিকা হতে বিকেল অব্দি ১৫১ টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় ভোটযুদ্ধ। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার পরও অত্যন্ত শান্ত পরিবেশে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। মধ্য রাতে চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন, প্রথমে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আবু বকর সরকার ও পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাররমিন আক্তার জাহান। চুড়ান্ত ফলাফলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীকে ১ লক্ষ ১৮ হাজার পাঁচশত সাতচল্লিশ ভোট পেয়ে বে- সরকারি ভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে প্রায় ৮০ হাজার ভোট পেয়ে বিশাল ব্যাবধানে পরাজিত হয়।
১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাবা কিংবদন্তি রাজনীতিবীদ ভাষা সৈনিক অলি আহাদ তৎকালীন কুমিল্লা -২ সরাইল আশুগঞ্জ আসনে গাভী প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন।তাঁর নিশ্চিত জয়কে ভূলন্ঠিত করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক ভোট কারচুপির মাধ্যমে তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে বিজয়ী করে নেয়।
নির্বাচনী এলাকার সকল শ্রেণি – পেশার মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় ভালো ফলাফল সম্ভব হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এই জয়ে মহান রাব্বে কারিম রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন,আমার নির্বাচনী এলাকার আপামর জনগন তথা ভোটারা ব্যালটের মাধ্যমে আমার উপর চাপিয়ে দেয়া সকল অন্যায় অত্যাচার ও জুলুমের প্রতিবাদী জবাব দিয়েছেন। আমার প্রতি তাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না। মহান আল্লাহর রহমতে ও তাদের সহযোগিতায় আমার বাবার হারানো আসনটি উদ্ধারের স্বপ্নপুরণ হয়েছে। এখন আমি তাদের সুখ – শান্তি ও কল্যাণের জন্য কাজ করবো। নির্বাচনটি সুন্দরভাবে সফল করার জন্য প্রশাসন তথা পুলিশ, বিজিবি, ব়্যাব,সেনাবাহিনী, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
খ,ম,জায়েদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া










