গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী বাগানবাড়ি এলাকায় ইয়াসিন এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি ঝুট গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোরের দিকে শুরু হওয়া এই আগুন বেলা ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভানোর কাজ এখনও চলমান রয়েছে এবং পুরোপুরি দমন করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ভোর চারটার দিকে ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন ইয়াসিন এন্টারপ্রাইজের একটি গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোডাউনের অন্যান্য অংশে। স্থানীয়রা প্রথমে নিজ উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করা হয়।
কোনাবাড়ী মর্ডান ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। এরপর সহায়তায় সারাবো মর্ডান ফায়ার সার্ভিসের আরও তিনটি ইউনিট উপস্থিত হয়। এভাবে পাঁচটি ইউনিট একযোগে কাজ শুরু করলে বেলা ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, যদিও আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, পুরোপুরি নিভাতে আরও দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। বর্তমানে তিনটি ইউনিট আগুন নিভানো ও ডাম্পিং কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম জানান, “ভোরে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত পাঁচটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। আগুনের প্রকোপ বেশি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনটি গোডাউনে তা ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। আমরা চেষ্টা করছি সম্পূর্ণ দমন ও নিরাপদ অবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার।”
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ ঝুট পুড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুনের প্রাথমিক ধোঁয়া ও আগুনের শিখা গোডাউনের আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। অনেকেই বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুনের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিক তদন্তের পর দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, ইয়াসিন এন্টারপ্রাইজের গোডাউনে বিপুল পরিমাণ ঝুট সংরক্ষণ করা হতো। তাই আগুনের প্রভাবও অন্য তুলনায় বেশি হয়। তারা আশা করছেন, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত সম্পূর্ণ দমন কাজ শেষ করবে এবং আর্থিক ক্ষতি মূল্যায়ন করা হবে।
এ ধরনের ঘটনা ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সঙ্গে সঙ্গে গোডাউনে নিরাপত্তা ও ঝুঁকি কমাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বিথী রানী মণ্ডল/










