পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ৮৫ শতাংশ নষ্ট হওয়ার খবরে দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রিয় নেতার সুচিকিৎসার দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানী ইসলামাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে দেশটির প্রধান বিরোধী জোট। এর ফলে পাকিস্তানে এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
ইমরান খানের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সাফদারের জমা দেওয়া মেডিকেল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী এই নেতা ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ (CRVO) নামক এক জটিল রোগে আক্রান্ত। রক্ত জমাট বেঁধে চোখের শিরার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় তার ডান চোখে এখন মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। পিটিআই নেতাদের অভিযোগ, অক্টোবর থেকে ইমরান খান বারবার ঝাপসা দেখার কথা জানালেও কারা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেয়নি।
সোমবার সংসদ ভবন, সংসদ লজ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া হাউজের সামনে অবস্থান নেয় তেহরিক তাহাফফুজ-ই-আইন পাকিস্তান (টিটিএপি)। মাহমুদ খান আচাকজাই এবং আলী আমিন গান্দাপুরের মতো হেভিওয়েট নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আল-শিফা আই ট্রাস্ট হাসপাতালে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত তারা সরবেন না। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামও এক্সে (টুইটার) ইমরান খানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গত রবিবার আদিয়ালা কারাগারে গিয়ে ইমরান খানের বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। যদিও সরকারি সূত্র দাবি করছে, তার চোখের ব্যথা কমেছে এবং অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তবে পিটিআই এই সরকারি মেডিকেল বোর্ডকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার দাবি জানাচ্ছে।
এদিকে, শারীরিক অবস্থার অবনতিকে ‘মানবিক কারণ’ হিসেবে দেখিয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে তোশাখানা-২ মামলার সাজা স্থগিত ও জামিনের আবেদন করেছেন ইমরান খান। একই মামলায় তার স্ত্রী বুশরা বিবিকেও দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পিটিআই সমর্থকরা মনে করছেন, তাকে জেলের ভেতরে সুপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘ সময় নিঃসঙ্গ রেখে মানসিকভাবে দুর্বল ও শারীরিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা চলছে।
বিরোধী জোটের এবারের আন্দোলনে কেবল রাজনৈতিক নেতারা নন, বরং দ্রুজ ও বেদুইনের মতো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদেরও দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খানের স্বাস্থ্য ইস্যুটিকে ঘিরে যদি বড় ধরনের জনরোষ তৈরি হয়, তবে তা শাহবাজ শরিফ সরকারের জন্য সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
-এম. এইচ. মামুন










