ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আটক তরুণ ইরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বা স্থগিত করা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক বক্তব্যের পর ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার রায়ই এখনো হয়নি এবং তার অপরাধের ধরনে মৃত্যুদণ্ডের কোনো আইনি বিধান নেই।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ হয়েছে বলে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন। এমনকি ইরফান সোলতানি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার কৃতিত্বও তিনি পরোক্ষভাবে দাবি করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসে তেহরান।
বৃহস্পতিবার ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA)-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির বিচার বিভাগ জানায়, ট্রাম্পের এই দাবি সত্য নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ জানুয়ারি সহিংসতা চালানোর অভিযোগে কারাজ শহর থেকে ইরফান সোলতানিকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হলো— অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিরোধী সমাবেশে অংশগ্রহণ এবং শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণা।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি- সোলতানির অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড নয়। বর্তমানে মামলার প্রাথমিক তদন্ত চলছে, এখনো কোনো রায় ঘোষণা করা হয়নি এবং প্রবাসে থাকা ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো সুপরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের ভুয়া খবর ছড়িয়েছে, যার দ্বারা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও বিভ্রান্ত হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তথ্যের একটি বড় ফারাক তৈরি হয়েছে। ইরান সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে ‘বিরোধী পক্ষের মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া বিবৃতি’ হিসেবে দেখছে।
ইরানি বিচার বিভাগের বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয় যে, বিরোধীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে মৃতদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় এবং হতাহতের সংখ্যা নিয়ে অতীতেও নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে।
১৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণকারী ইরফান সোলতানি বর্তমানে কারাজের কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। ইরানের তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তাতে আইনে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান নেই। অথচ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, তাকে আটক করে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন বা পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ইরানের এই সর্বশেষ প্রত্যাখ্যানের ওপর এখনো কোনো পাল্টা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বর্তমান অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যেখানে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই উচ্চপর্যায়ের বিবৃতি আসছে।
তথ্যসূত্রঃ ইরনা
-এম এইচ মামুন










