আদিম মানুষের পোশাকের নতুন প্রমাণ পেলেন গবেষকরা

মানুষ কবে প্রথম কাপড় বানাতে শিখেছিল—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে গবেষকরা পেয়েছেন এক চমকপ্রদ তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি গুহা থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ১২ হাজার বছরের পুরোনো পশুর চামড়ার টুকরো। গবেষকদের ধারণা, এগুলো হতে পারে মানুষের তৈরি সবচেয়ে পুরোনো সেলাই করা পোশাক।

এই চামড়ার টুকরোগুলো পাওয়া গেছে কুগার মাউন্টেন কেভ নামের একটি গুহায়। গবেষণা বলছে, এগুলো হরিণজাতীয় প্রাণী এল্কের চামড়া। বয়স ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৬০ থেকে ১২ হাজার ৬২০ বছর। সে সময় পৃথিবীতে চলছিল বরফ যুগের শেষ পর্ব (প্লাইস্টোসিন যুগ—অত্যন্ত শীতল সময়কাল)।

গবেষকরা দেখেছেন, চামড়ার টুকরোগুলো একসঙ্গে জোড়া দেওয়া ছিল। জোড়া দিতে ব্যবহার করা হয়েছিল পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি দড়ির মতো সুতা। গুহার ভেতর পাওয়া গেছে হাড়ের তৈরি সুঁইও। ধারণা করা হচ্ছে, এই সুঁই দিয়েই চামড়া সেলাই করা হয়েছিল। বয়স নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়েছে রেডিওকার্বন পরীক্ষা (পুরোনো জিনিসের বয়স জানার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি)।

তবে গবেষকরা নিশ্চিত নন, এই সেলাই করা চামড়া ঠিক পোশাকই ছিল কি না। এগুলো ব্যাগ, থলে বা ছোট আশ্রয়ের অংশও হতে পারে। তবুও যদি প্রমাণ হয় যে এগুলো পোশাক ছিল, তাহলে এটি হবে মানুষের তৈরি সবচেয়ে পুরোনো সেলাই করা পোশাকের প্রমাণ।

এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যায়, প্রচণ্ড ঠান্ডার সময় মানুষ কীভাবে টিকে ছিল। সাধারণ পশুর চামড়া শরীরকে পুরোপুরি গরম রাখতে পারত না। কিন্তু সেলাই করা পোশাক শরীরের সঙ্গে লেগে থাকত। এতে তাপ ধরে রাখা সহজ হতো এবং চলাফেরাতেও অসুবিধা হতো না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বরফ যুগে হাড়ের সুঁই খুবই সাধারণ ছিল। পরে আবহাওয়া উষ্ণ হলে এসব সুঁইয়ের ব্যবহার কমে যায়। এই আবিষ্কার আদিম মানুষের বুদ্ধি ও টিকে থাকার কৌশল সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।

-সাইমুন