ইরান সীমান্তের ৭০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন রণতরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ওমান উপকূলের কাছে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। বিবিসি ভেরিফাই স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, রণতরীটি ইরান সীমান্ত থেকে মাত্র ৭০০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরে অবস্থান করছে।

কৌশলগত অবস্থান ও কূটনৈতিক চাপ
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এই সময়ে সাগরে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ১২টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া জর্ডানের ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং লোহিত ও ভূমধ্যসাগরে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ইরানের পাল্টা মহড়া
মার্কিন প্রস্তুতির জবাবে সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মহড়া চলাকালীন আইআরজিসি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরকে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খারিগ দ্বীপের ওপর দিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে।

দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের প্রস্তুতি?
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের মার্কিন প্রস্তুতি গত বছরের ভেনেজুয়েলা সংকট বা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা থাকায় পরিস্থিতি আরও গম্ভীর হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, আলোচনার টেবিলে সমঝোতা না হলে তারা বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত।

মোঃ আশরাফুল আলম