রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে কে কোথায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি এখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়- কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
জোরালো আলোচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ৭৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ কুমিল্লা-১ আসন থেকে এবারসহ পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ইতিপূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা দল ও দেশের কাছে তাকে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, খন্দকার মোশাররফ বর্তমানে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে কিছুটা নিভৃতে থাকছেন, যা তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের জন্য একজন ‘ক্লিন ইমেজ’ বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নজরুল ইসলাম খান
আলোচনায় নজরুল ইসলাম খান
রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। খালেদা জিয়ার জানাজায় দলের পক্ষ থেকে তার বক্তব্য এবং দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্বের ভূমিকা তাকে আলোচনায় রেখেছে।
তবে দলের একটি বড় অংশের মত হলো-নজরুল ইসলাম খানকে রাষ্ট্রপতি না করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
বর্তমান রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ
আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়া মো. সাহাবুদ্দিন আর পদে থাকছেন না-এটি প্রায় নিশ্চিত। গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি সরে যেতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, “আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছিলাম যখন এক রাতেই সব জায়গা থেকে আমার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।” যদিও তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত, তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে তিনি যে কোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন।
এছাড়াও আলোচনায় আরও যারা
নতুন সরকার গঠনের ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে রাষ্ট্রপতি পদে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নজরুল ইসলাম খান নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হলেও, বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে ড. আব্দুল মঈন খান এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়েও ‘ক্ষীণ’ কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রকাঠামো গড়তে এই দলের ভেতর থেকে আরও দু’টি নাম ক্ষীণভাবে শোনা যাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: যদিও তিনি মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হতে যাচ্ছেন, তবুও রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম আলোচনায় আনছেন কেউ কেউ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ড. আব্দুল মঈন খান: স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও উচ্চশিক্ষিত এই প্রবীণ নেতার নামও রাষ্ট্রপতি পদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে।
ড. আব্দুল মঈন খান
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে?
আগামীকাল সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা গঠনের পর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বঙ্গভবনে মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত খন্দকার মোশাররফ হোসেনই এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
লামিয়া আক্তার