ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নির্মাতা, সাংবাদিক ও সম্প্রচারক জুবায়ের বাবু।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিস্তৃত শুভেচ্ছা বার্তায় জুবায়ের বাবু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, প্রতিকূলতা এবং আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান যে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, ধৈর্য এবং কৌশলগত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
জুবায়ের বাবু বলেন,‘এই বিজয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, জনসম্পৃক্ততা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অদম্য প্রত্যয়ের ফল।’
তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল সংকটপূর্ণ, বিভাজন এবং দমন-পীড়নে চিহ্নিত। বিরোধী রাজনীতির ওপর কঠোর নজরদারি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে টিকে থেকেছে এবং জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট রেখেছে।
জুবায়ের বাবু বলেন, ‘যে দল দীর্ঘ সময় চাপের মুখে থেকেও ভেঙে পড়েনি, বরং নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে—তাদের প্রতি জনগণের আস্থা স্বাভাবিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সংকট, যুবসমাজের প্রত্যাশা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগ সম্পর্কে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দূরত্ব কখনোই তারেক রহমানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে দুর্বল করতে পারেনি; বরং তিনি নিজেকে আরও প্রস্তুত করেছেন।’
জুবায়ের বাবু উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায় স্পষ্ট, তারা পরিবর্তন চেয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্বে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করেছে। ভোটাররা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের ওপর আস্থা রেখেছেন।
তিনি বলেন,‘ক্ষমতা নয়, জনতা—সবার আগে বাংলাদেশ’, এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবেন।
জুবায়ের বাবু আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবে, বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা দেখাবে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, যুবসমাজের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি মনে করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রায় বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হবে।
-সাইমুন









