ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে তাদের দ্বিতীয় দফা শপথ নেওয়া নিয়ে এক ধরণের রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংসদ সচিবালয় দুটি শপথেরই প্রস্তুতি রাখলেও প্রধান দল বিএনপি এই পরিষদের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা। যেহেতু ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে, তাই এই আদেশের তৃতীয় স্তর হিসেবে সংসদ সদস্যদের এই পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিতে হবে। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, তারা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই ধরণের শপথের জন্যই নির্ধারিত ফরম প্রস্তুত রেখেছেন।
সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি শুরু থেকেই এই ‘সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে আসছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আগেই বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা থাকলেও এ ধরণের ‘আদেশ’ জারির সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলটির ২০৯ জন সংসদ সদস্য কাল কেবল এমপি হিসেবেই শপথ নিতে পারেন এবং দ্বিতীয় শপথে অংশ না-ও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়বে।
বিপরীত দিকে, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে অনড়। কিশোরগঞ্জে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, গণভোটের রায় খণ্ডিতভাবে দেখার সুযোগ নেই, পুরোটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। এনসিপি মনে করে, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য নিয়মিত সংসদের চেয়ে এই বিশেষ পরিষদের গুরুত্ব বেশি।
সংস্কার পরিষদের কার্যপদ্ধতি বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে এই পরিষদের প্রথম সভা আহ্বান করতে হবে। পরিষদ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।
দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর মতো ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়নে কাজ করবে এই পরিষদ।
সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ মনে করেন, এটি এখন কেবল আইনি বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক সমন্বয়ের বিষয়। তিনি বলেন, “গণভোটে যেমন জনরায় এসেছে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও জনগণের সমর্থন আছে। এই দুটির মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব এখন রাজনীতিকদেরই নিতে হবে।”
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় স্পষ্ট হবে-নতুন বাংলাদেশ কি নতুন সংবিধান সংস্কার পরিষদের পথে হাঁটবে, নাকি বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোতেই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।