ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী দেশজুড়ে চলমান সহিংসতা ও ‘জুলুমতন্ত্রের’ কড়া সমালোচনা করে বিএনপিকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর যে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে তা বন্ধ না করলে বিএনপিকেও শেখ হাসিনার মতো পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীতে বিএনপির ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে এনসিপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেন, “নরেন্দ্র মোদি যদি বাংলাদেশে কোনো সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আসেন, তবে আমাদের ভেবে দেখতে হবে আমরা সেই নির্লজ্জ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হব কি হব না।” তিনি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সমালোচনা করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, “অত্যন্ত লজ্জার সঙ্গে দেখছি, শপথের আগেই মিডিয়া তারেক রহমানের সামনে সেজদায় রত হয়েছে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার আগে অভয় চাইছেন। ঠিক যেসব উপকরণ শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিল, এখন সেই একই উপকরণের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।”
নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন করায় নারী ভোটারদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি দাবি করেন, “আমাদের মা-বোনেরা জোটকে নিরাপদ মনে করে সমর্থন দিয়েছেন। এর শাস্তি হিসেবে বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগেই তাদের জায়গায় জায়গায় ধর্ষণ, ধর্ষণের হুমকি ও নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রতিশোধ নিচ্ছে।”
নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “দিনের বেলায় ভোট মোটামুটি সুস্থ হলেও রাতের বেলা আপনারা ভোটের সংখ্যা নিয়ে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেছেন। ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ আমাদের অন্তত ৫০ জন প্রার্থীকে এভাবে হারানো হয়েছে। মনে রাখবেন, দেশের ৪৬ শতাংশ জনগণ আপনাদের ভোট দেয়নি। এই বিশাল অংশকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়।”
বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, “অনেকে বলছেন শপথের পর দেখে নেবেন। আপনাদের সতর্ক করতে চাই, শেখ হাসিনার পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন। আপনারা যদি মাফিয়াতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান, তবে শেখ হাসিনার উদাহরণ আপনাদের সামনে জ্বলজ্বল করছে।” তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ও পরবর্তী সরকারের কাছে নির্বাচনের পর সংঘটিত সব হামলা, লুটপাট ও ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
-লামিয়া আক্তার










