আর্থিক ক্ষতি ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নীরবে দেশ ছেড়েছেন। দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর পরিবারের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বিদেশে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
‘১০ ফেব্রুয়ারি ছিল শেষ কর্মদিবস’
পোস্টে তৈয়্যব লেখেন, ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল তার অফিসিয়াল শেষ কর্মদিবস। সেদিন সহকর্মীদের সঙ্গে ফেয়ারওয়েল ডিনারও করেন। প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনী আয়োজনেও তার অবদান ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আর্থিক ক্ষতি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন
তৈয়্যব বলেন, দেশের জন্য কাজ করতে এসে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এক সহকর্মী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি জানান, দ্রুত একটি চাকরি খুঁজতে হবে।
দ্রুত দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং এবং স্ত্রীর চিকিৎসাজনিত জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, যথাযথ ছুটি নিয়েই পরিবারের কাছে যাচ্ছেন এবং রিটার্ন টিকিট কাটা রয়েছে। দীর্ঘ সময় পরিবারকে সময় দিতে না পারায় এখন কিছুটা সময় দিতে চান বলেও পোস্টে লেখেন তিনি।
দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার
পোস্টে তৈয়্যব দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছেন। পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনে কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। মোবাইল ব্যবসায়ী ও টেলিকম সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্স–এর একটি ফ্লাইটে তিনি দুবাই হয়ে জার্মানির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
-এমইউএম










