ইসুবগুলের ভূসি সুস্থ থাকার মহৌষধ

ইসুবগুলের ভূসি আমাদের দেশে অত্যন্ত পরিচিত একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি মূলত ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ নামক উদ্ভিদের বীজ থেকে তৈরি হয়। ফাইবার বা আঁশে ভরপুর এই উপাদানটি কেবল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেই নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় চমৎকার ভূমিকা পালন করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে
ইসুবগুলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে জাদুর মতো কাজ করে। এতে থাকা উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ফাইবার পাকস্থলীতে গিয়ে পানি শোষণ করে জেলের মতো তৈরি হয়, যা মলকে নরম করে এবং অন্ত্রের চলন সহজ করে। নিয়মিত এটি খেলে পেট পরিষ্কার থাকে।

ডায়রিয়া প্রতিরোধে
শুনে অবাক মনে হতে পারে, কিন্তু এটি ডায়রিয়া নিরাময়েও কার্যকর। ইসুবগুল পানি শোষণের ক্ষমতা রাখে বলে ডায়রিয়ার সময় এটি পাতলা মলকে ঘন করতে সাহায্য করে। টক দইয়ের সাথে ইসুবগুল মিশিয়ে খেলে অন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত কমে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে
ইসুবগুলের ভূসি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি পিত্তরসের
সাথে যুক্ত হয়ে শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল বের করে দেয়। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
ওজন কমাতে চাইলে ইসুবগুলের ভূসি হতে পারে আপনার সেরা বন্ধু। এটি খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যার ফলে বারবার খাওয়ার ইচ্ছা বা ‘ক্রেভিং’ কমে যায়। খাবারের ৩০ মিনিট আগে এটি খেলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ থেকে বিরত থাকা সম্ভব হয়।

রক্তে শর্করা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বেশ উপকারী। খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রোধ করতে ইসুবগুল সাহায্য করে। এটি পরিপাক প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে, ফলে শরীর ধীরে ধীরে চিনি শোষণ করে।

অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়া কমাতে
যারা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য ইসুবগুল একটি প্রাকৃতিক সমাধান। এটি পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে একটি সুরক্ষামূলক আস্তরণ তৈরি করে, যা এসিডের প্রভাব কমিয়ে দেয় এবং বুক জ্বালাপোড়া প্রশমিত করে।

ইসুবগুলের ভূসি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। তবে দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এটি শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

-বিথী রানী মণ্ডল