ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সংসদে একটি ‘নীতিবান ও দায়িত্বশীল’ বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সাথে তিনি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে দলীয়ভাবে ‘হটলাইন’ চালু করার কথা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দলের এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।
জামায়াত আমির বলেন, “আমরা নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের পথ এখন পরিষ্কার—মানুষের আস্থা অর্জন করা, ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দায়িত্বশীলভাবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।”
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিল, যেখান থেকে ১৮ বছরের দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২৬ সালে তারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। জামায়াতও এবার ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদে তাদের শক্তি প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি করেছে এবং একটি শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে ‘জুলাই বিপ্লবের’ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “জুলাই সনদ ছিল সুস্পষ্ট—আর কোনো স্বৈরাচার নয়; না রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে, না কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে। এ দেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, আবারও ভয়-ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দেশের বুকে কোনো ধরণের প্রতিহিংসার রাজনীতির স্থান নেই।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের কোথাও হামলা, ভাঙচুর বা হয়রানির ঘটনা ঘটলে তা সরাসরি জানাতে একটি কেন্দ্রীয় হটলাইন নম্বর চালু করেছে জামায়াতে ইসলামী।
হটলাইন নম্বর: ০৯৬৩৯-১১১৪৪৪ বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোট কিংবা ভিন্নমত পোষণকারী নাগরিকদের ওপর কোনো হামলা হলে এই নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করবে না, বরং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখবে। তিনি সেই সব স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যারা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন।
-লামিয়া আক্তার










