ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দেশবাসীর উদ্দেশে প্রথম ভাষণে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই ঐতিহাসিক জয়কে তিনি উৎসর্গ করেছেন গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর এক আবেগঘন বক্তৃতায় তারেক রহমান বলেন: “আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।”
তিনি স্পষ্ট জানান, দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ বরদাশত করা হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গজেট অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং মিত্রদেরসহ মোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা নিতে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের সংগঠন ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৬টিতে জয়ী হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ল্যান্ডস্লাইড বিজয়ের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও প্রভাবশালী সিনেটর মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তারেক রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রুবিও লিখেছেন, “আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে উন্মুখ যুক্তরাষ্ট্র।” এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ফোনে কথা বলে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ভোট গণনায় কিছু অসঙ্গতির অভিযোগ তুললেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের সামগ্রিক ফল মেনে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তারা আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সংসদে একটি সজাগ ও নীতিবান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
-লামিয়া আক্তার










