মোজার দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকর উপায়

মোজা পরার পর দুর্গন্ধ হওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। দীর্ঘ সময় জুতা পরা, ঘাম, বাতাস চলাচল না করা এবং জীবাণুর কারণে এই দুর্গন্ধ তৈরি হয়। অনেক সময় পরিষ্কার পা থাকলেও মোজার ভেতরে জমে থাকা ঘাম ও ব্যাকটেরিয়া থেকেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। নিয়মিত যত্ন নিলে এবং কিছু অভ্যাস বদলালে এই সমস্যা সহজেই দূর করা সম্ভব।

প্রথমেই পায়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। প্রতিদিন গোসলের সময় পা ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধোয়া জরুরি। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকগুলো পরিষ্কার না হলে সেখানে জীবাণু জমে দুর্গন্ধ বাড়ায়। ধোয়ার পর পা ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভেজা পায়ে মোজা পরলে দুর্গন্ধ আরও দ্রুত তৈরি হয়।

মোজা ধোয়ার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সাধারণ ডিটারজেন্টে ধুলেও মোজার ভেতরে জমে থাকা দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর হয় না। এ ক্ষেত্রে গরম পানিতে মোজা ভিজিয়ে রাখা উপকারী। পানিতে সামান্য লবণ বা বেকিং সোডা মিশিয়ে নিলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু নষ্ট হয়। ধোয়ার পর রোদে ভালোভাবে শুকানো উচিত, কারণ সূর্যের আলো প্রাকৃতিকভাবে জীবাণু ধ্বংস করে।

মোজা বাছাইও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। সুতি বা কটন মোজা ঘাম শোষণ করে নেয়, ফলে পা তুলনামূলক শুকনো থাকে। সিনথেটিক বা নাইলনের মোজায় ঘাম জমে থেকে দুর্গন্ধ বেশি হয়। তাই সম্ভব হলে সবসময় ভালো মানের সুতি মোজা ব্যবহার করা উচিত এবং একদিনের বেশি একই মোজা না পরাই ভালো।

ঘরোয়া কিছু উপায়ও বেশ কার্যকর। মোজা পরার আগে পায়ে অল্প পরিমাণ ট্যালকম পাউডার বা কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করলে ঘাম কম হয়। আবার রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে অল্প ভিনেগার বা লেবুর রস মিশ্রিত পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যায়। তবে ব্যবহারের পর অবশ্যই পা ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

জুতার পরিচর্যাও সমান জরুরি। অনেক সময় মোজা নয়, বরং জুতার ভেতরে জমে থাকা দুর্গন্ধ মোজায় লেগে যায়। তাই নিয়মিত জুতা রোদে দেওয়া, ভেতরে শুকনো কাগজ বা টি ব্যাগ রেখে আর্দ্রতা শোষণ করা ভালো অভ্যাস। এক জোড়া জুতা প্রতিদিন না পরে পালা করে ব্যবহার করলে জুতার ভেতর শুকানোর সময় পায়।

মোজার দুর্গন্ধ দূর করা খুব কঠিন কিছু নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক মোজা নির্বাচন, ভালোভাবে ধোয়া ও শুকানো এবং পা ও জুতার যত্ন নিলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। একটু সচেতন হলেই দুর্গন্ধমুক্ত আর স্বস্তিদায়ক দিন কাটানো যায়।

বিথী রানী মণ্ডল/