প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিন—একদিনেই ঘুরে আসুন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওর বর্তমানে কোনো সাধারণ জলাভূমি নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য রূপকথার জনপদ। মাইলের পর মাইল জুড়ে বিস্তৃত গোলাপি রঙের হুড়হুড়ে ফুল (স্থানীয় নাম ‘মাকড়সা ফুল’) পুরো এলাকাটিকে এক স্বপ্নিল চাদরে ঢেকে দিয়েছে।

সাধারণত হাওর বললেই আমাদের চোখে ভাসে থৈ থৈ জলরাশি আর মাঝিদের কর্মব্যস্ততা। কিন্তু শীতের শেষে করিমগঞ্জের বড় হাওর এক ভিন্ন সাজে সেজে ওঠে। বর্ষাকালে এই ফুলের বীজগুলো পানির নিচে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। পানি নেমে যাওয়ার পর শুষ্ক মৌসুমে প্রকৃতি যেন হঠাৎ করেই জেগে ওঠে।

সবুজ প্রান্তরের ওপর মাইলের পর মাইল গোলাপি আভা দেখে মনে হয়, কেউ যেন যত্নে বড় এক গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। রোদের আলোয় যখন এই ফুলগুলো চিকচিক করে ওঠে এবং হালকা বাতাসে দুলতে থাকে, তখন যে কেউ নিমিষেই এর প্রেমে পড়ে যাবেন।

হাওরের এই রাজকীয় সৌন্দর্য উপভোগ করার সবচেয়ে আদর্শ সময় হলো ভোর এবং বিকেল। ভোরে শিশিরভেজা ফুল আর হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা হাওর এক অপার্থিব নিস্তব্ধতা উপহার দেয়। বিকেলে সূর্যাস্তের লালচে আভার সাথে যখন গোলাপি ফুলের মিতালি ঘটে, তখন পুরো আকাশ আর মাঠ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। যারা ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি এক স্বর্গীয় ক্যানভাস।

করিমগঞ্জের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান বালিখলা ঘাট,হাওরের প্রবেশদ্বার এখান থেকে বিশাল জলরাশির শুরুটা উপভোগ করা যায়।অল-ওয়েদার সড়ক ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মাঝ দিয়ে যাওয়া এই রাস্তাটি বর্তমানে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।ছাতিরচরের করচবন পানির ওপর ভেসে থাকা এক অরণ্য, যা বর্ষায় বেশি সুন্দর হলেও শীতেও এর নির্জনতা উপভোগ্য।জঙ্গলবাড়ি দুর্গবীর ঈসা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান, যা ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করবে।

-বিথী রানী মণ্ডল