পশ্চিম তীরে ‘অবৈধ দখল’ জোরদারের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর তীব্র নিন্দা

ছবিঃ সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের তথাকথিত সার্বভৌমত্ব আরোপের উদ্যোগকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আটটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ‘বিপজ্জনক আগ্রাসন’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

সোমবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বিবৃতিতে মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল নতুন আইনগত ও প্রশাসনিক বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল ও উচ্ছেদকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন এসব ব্যবস্থার ফলে পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ইহুদি বসতকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ হবে এবং আগে গোপন রাখা ভূমি নিবন্ধন তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কিছু ধর্মীয় স্থাপনার ব্যবস্থাপনা নিজেদের হাতে নেওয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ইসরায়েলের নজরদারি ও নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো তথাকথিত ইসরায়েলের ভূমিতে শিকড় আরও গভীর করা এবং একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে ‘সমাহিত’ করা।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই সিদ্ধান্তকে কার্যত পশ্চিম তীর দখলের ঘোষণা বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পশ্চিম তীর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপকে ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর সবচেয়ে বিপজ্জনক সংযুক্তিকরণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। নতুন নিয়মের ফলে ইসরায়েলি বসতকারীরা নির্বিঘ্নে ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে জমির মালিকানা দাবি করতে পারবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে একে ‘ভুল পথে আরেকটি পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে।

পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। বর্তমানে পশ্চিম তীরের বড় একটি অংশ সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সীমিত কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছে। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হলেও পশ্চিম তীরে সাত লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতকারীর বসবাস রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বসতকারীদের সহিংসতা ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে জানুয়ারিতেই অন্তত ৬৯৪ ফিলিস্তিনি নিজ বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।

-বেলাল হোসেন