আলোচনায় বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ, যা বলল আইসিসি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে টুর্নামেন্টে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আইসিসিকে চাপ দিতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে পিসিবির সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পিসিবি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আইসিসির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, রবিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ডন-এর প্রতিবেদনে পিসিবির একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে পাকিস্তান সরকারের অনুমোদন নেওয়া হবে। এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আইসিসির কাছে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে পিসিবি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় বাংলাদেশের জন্য বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ প্রদান, টুর্নামেন্টে অংশ না নিলেও বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব বাংলাদেশকে দেওয়া।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির পক্ষ থেকে আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে আইসিসির মোট আয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে তাদের পূর্ণ প্রাপ্য নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা পিসিবিকে পরামর্শ দিয়েছেন, চাইলে তারা বিষয়টি আইসিসির আরবিট্রেশন কমিটি কিংবা বোর্ড সভায় তুলতে পারে। তবে ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করাই যুক্তিসংগত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে পাকিস্তান সরকারের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নেবে না পাকিস্তান। পরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এদিকে আইসিসি পিসিবির কাছে জানতে চেয়েছে, ‘ফোর্স মেজর’ দাবি করার আগে তারা কী ধরনের প্রতিকারমূলক উদ্যোগ নিয়েছিল। সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তি (এমপিএ) অনুযায়ী বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত। ইএসপিএন-ক্রিকইনফো জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর ১০ দিনেরও কম সময় আগে পিসিবি ইমেইলের মাধ্যমে আইসিসিকে জানায়, সরকারের নির্দেশেই তারা ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইসিসির সংবিধানে ‘ফোর্স মেজর’ কার্যকরের শর্ত, প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং এর ক্রীড়া, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রভাব স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আইসিসি পিসিবিকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ম্যাচ না হলে সংস্থাটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতাও আইসিসির হাতে রয়েছে।

তবে পিসিবির ধারণা, বিষয়টি আইনি পর্যায়ে গেলে তাদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত থাকবে। এ ক্ষেত্রে তারা পাকিস্তান ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার অতীতের একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ সংক্রান্ত বিরোধের উদাহরণ তুলে ধরছে, যা একসময় আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

-এমইউএম