পৃথক দুটি ঘটনায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৬ফেব্রুয়ারি) ভোরে নাটোরে ট্রেন দুর্ঘটনায় রাবি শিক্ষার্থী মাহদী হাসান মুরাদ এবং দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুবি’র সাবেক শিক্ষার্থী শারাবান তহুরা সাকির মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (৬ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাটোরের আব্দুলপুর জংশনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হন মাহদী হাসান মুরাদ। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (নবীন) শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনটি জংশনে ইঞ্জিন পরিবর্তনের জন্য দাঁড়ালে মুরাদ রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ইঞ্জিনের ধাক্কায় তিনি লাইনে পড়ে যান এবং চাকা তার পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মুরাদের বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। এই ঘটনায় রেলওয়ে প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন সহযাত্রীরা। রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, কিডনি বিকল ও হৃদরোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে শুক্রবার (৬ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে মারা যান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী শারাবান তহুরা সাকি। মাত্র দুই মাস আগে তার দুটি কিডনি অকেজো হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ফুসফুসে পানি জমে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চাঁদপুরের শাহরাস্তির সন্তান শারাবান তহুরা ব্যক্তিগত জীবনে এক পুত্রসন্তানের জননী ছিলেন।
দুই ক্যাম্পাসের সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে এখন কেবলই নিস্তব্ধতা আর শোকের মাতম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোকাতুর শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় মুখগুলোর স্মৃতিচারণ করছেন।
–লামিয়া আক্তার










