পঞ্চগড়-২ আসনে একই ইউনিয়নের চার প্রার্থী দ্বিধায় সাধারণ ভোটার

পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনে একটি ইউনিয়ন থেকে চার প্রার্থী সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রচার করছেন। চারজনই ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ফলে প্র ওই ইউনিয়নবাসী পড়েছেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। বোদা এ উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের এক কিলোমিটার ব্যবধানের মধ্যে এ চার প্রার্থীর বাড়ি। পঞ্চগড়-২ সংসদীয় আসনের বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়ন ঘুরে ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে এমনি অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। এক ইউনিয়নের চার প্রার্থীকে নিয়ে আনন্দের পাশাপাশি নীরব ভূমিকা প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেক ন সাধারণ ভোটারকে। তারা মুখ ন ফুটে বলতে পারছেন না তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাকোয়া বাজার এলাকার একজন বাসিন্দা এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের ইউনিয়ন থেকে চারজন প্রার্থী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ আছে, কিন্তু নির্দিষ্ট একজন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গেলে বাকিদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ হবে- এ আশঙ্কায় ভোটাররা প্রচার ও পছন্দের প্রার্থীর কথা না বলে নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে সাকোয়া ইউনিয়ন থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি), লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির লুৎফর রহমান রিপন, কাস্তে প্রতীক নিয়ে ন কমিউনিস্ট পার্টির আশরাফুল আমল এবং ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাহমুদ হোসেন সুমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইউনিয়ন সদর সাকোয়া বাজার ন থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে এসব প্রার্থীর বাড়ি। এসব প্রার্থী ওই এলাকার মানুষের কারও বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠজন হিসেবে একান্তভাবে পরিচিত।

ওই ইউনিয়নের নগর সাকোয়া গ্রামের ফরিদুল ইসলাম বলেন, সাবেক এমপি মোজাহার হোসেনের ছেলে মাহমুদ হোসেন সুমন এমপি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিন্তু অপর প্রার্থিরাও আমাদের সুপরিচিত হওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি।

পঞ্চগড়-২ জামায়াতে ইসলাম প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফির সাকোয়া বাজার গ্রামের বাসিন্দা হেকমত আলী বলেন, গ্রামবাসী হিসেবে আমাকে সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু এ ইউনিয়নের অন্য তিনজন প্রার্থীও আমার ঘনিষ্ঠজন। এ জন্য কারও পক্ষে প্রকাশ্য ভোট প্রচার কিংবা ভোটের কথা বলতে পারছি না।

জাতীয় পার্টি থেকে এমপি প্রার্থী লুৎফর রহমান রিপনের সাকোয়া কলেজ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর ভোট হয়ে যাওয়ার পর ব্যক্তিগত সম্পর্কই সামনে থাকবে। তাই এ এলাকার চার প্রার্থীর কারও পক্ষে কাজ করে বিরাগভাজন হতে চাই না।

কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল আলমের গ্রামের রশিদুল বলেন, সাকোয়া ইউনিয়নে চার প্রার্থী হওয়ায় গর্ব অনুভব করি, ভোটের অন্তিম পর্যায় যে বেশি এগিয়ে থাকবে, তার দিকেই হয়তো অনেকেই মতামত জানাবে।

এ ছাড়া এ আসনে এই চারজন ছাড়াও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ, মোটরগাড়ি প্রতীকে বাংলাদেশ জাসদের এমরান আল আমিন, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে কামরুল হাসান প্রধান ও একতারা প্রতীক নিয়ে সুপ্রিম পার্টি থেকে দেলোয়ার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পঞ্চগড়