২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর আগেই ক্রিকেট বিশ্বে বিষণ্ণ আবহ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে আইসিসির অনড় অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আঘা।
ক্যাপ্টেনস ডে উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যখন অন্যান্য দলের অধিনায়করা নিজেদের রণকৌশল নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন সালমান আঘার কণ্ঠে উঠে আসে বাংলাদেশের জন্য গভীর আক্ষেপ।
বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই। তারা পাকিস্তানের প্রতি যে সমর্থন দেখিয়েছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে তারা এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না।”
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উত্থাপিত নিরাপত্তা উদ্বেগকে কেন্দ্র করে। ভারত থেকে ম্যাচ ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ আইসিসি প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এক অভূতপূর্ব ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি খেলবে না।
পাকিস্তানের এই অবস্থানের পর বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজের ফেসবুক পোস্টে শাহবাজ শরীফকে ধন্যবাদ জানান। তিনি পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি গভীর ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে খেলার মাঠে রাজনীতি না রাখার যে আহ্বান পাকিস্তান জানিয়েছে, সেটিকে সময়োপযোগী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া এবং পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় আইসিসি বড় ধরনের ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হওয়া মানে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি, যা সামাল দেওয়া আইসিসির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-এমইউএম










