পর্যটকের চাপে জাপানের মাউন্ট ফুজি চেরি ব্লসম উৎসব বাতিল

ছবিঃ সংগৃহীত

জাপানের নান্দনিক মাউন্ট ফুজিকে পটভূমিতে রেখে চেরি ব্লসম বা সাকুরা উৎসবের যে চোখজুড়ানো দৃশ্য পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ছিল, তা এবার বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে স্থানীয় বাসিন্দাদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠায় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জাপানের মধ্যাঞ্চলীয় ইয়ামানাশি অঞ্চলের ফুজিইয়োশিদা শহর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী হওয়া এই জনপ্রিয় উৎসবটি এ বছর হচ্ছে না। সাধারণত প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে এই উৎসবে। শহর কর্তৃপক্ষের মতে, পর্যটকদের ভিড়ে স্থানীয়দের ‘শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা হুমকির মুখে’ পড়েছে।

জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান কমে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটকদের কাছে দেশটি ভ্রমণের আকর্ষণ বেড়েছে। ফলে ২০২৫ সালে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ পর্যটক জাপান সফর করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালেও দেশটিতে রেকর্ড প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ পর্যটক এসেছিলেন।

তবে এই পর্যটক জোয়ারের কারণে কিয়োটোর মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেখানে ছবি তোলার জন্য পর্যটকদের বিরুদ্ধে ঐতিহ্যবাহী কিমোনো পরিহিত গেইশাদের বিরক্ত করার অভিযোগও উঠেছে।

ফুজিইয়োশিদা শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদেশি পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ে শহরে সবসময় যানজট লেগে থাকছে। যত্রতত্র সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলা হচ্ছে। এমনকি নাগরিকদের ব্যক্তিগত বাগানে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং সেখানে মলমূত্র ত্যাগের মতো বিব্রতকর ঘটনার খবরও পাওয়া গেছে।

এক বিবৃতিতে ফুজিইয়োশিদার মেয়র শিগেরু হোরিউচি বলেন, ‘মাউন্ট ফুজির এই সুন্দর দৃশ্যের পেছনে লুকিয়ে আছে নাগরিকদের বিপন্ন জীবনের এক রূঢ় বাস্তবতা। আমরা গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিকদের মর্যাদা এবং বসবাসের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আমরা ১০ বছরের পুরোনো এই উৎসবটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তবে শহর কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, উৎসব বাতিল হলেও বসন্তের আগমনে পর্যটকদের ভিড় পুরোপুরি থামানো যাবে না। কারণ উৎসবের মূল কেন্দ্র পার্কটি থেকে মাউন্ট ফুজি, চেরি গাছ এবং একটি পাঁচতলা প্যাগোডার যে চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়, তা পর্যটকদের টানেই।

মাউন্ট ফুজি বরাবরই পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। ভিড় সামলাতে নিকটবর্তী শহরগুলো এর আগে ছবি তোলার জায়গায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এছাড়া পাহাড়ে ওঠার জন্য ফি নির্ধারণ এবং প্রতিদিন আরোহীদের সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

-বেলাল হোসেন