গুগলের বিরুদ্ধে সার্চ অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় আপিল করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: রয়টার্স

গুগলের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত অনলাইন সার্চ অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও দেশটির বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্য। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, মঙ্গলবার এই আপিল প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

২০২৪ সালে ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালত রায়ে জানায়, অনলাইন সার্চ বাজারে গুগল একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি করেছে। তবে সে সময় আদালত গুগলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে রাজি হয়নি, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা।

আপিল আবেদনে কী কী বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে, সে সম্পর্কে আদালতের নথিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বিচারক গুগলকে জনপ্রিয় ক্রোম ব্রাউজার বিক্রি করতে বাধ্য না করা কিংবা অ্যাপলকে বিপুল অঙ্কের অর্থ দিয়ে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন থাকার চুক্তি বাতিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই বিষয়গুলোই আপিলের মূল ফোকাস হতে পারে।

এদিকে, গুগল নিজেও আদালতের আগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, প্রতিযোগিতা ঠেকাতে তারা বেআইনি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সার্চ ডেটা শেয়ার সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ স্থগিত রাখার আবেদনও করেছে গুগল। এই আপিল প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আদালত এর আগে গুগলকে ক্রোম ব্রাউজার বা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম আলাদা করার মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়নি। একই সঙ্গে নতুন ডিভাইসে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে থাকার জন্য অ্যাপলকে বিপুল অর্থ পরিশোধে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়নি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, গত পাঁচ বছরে ওপেনএআইয়ের মতো জেনারেটিভ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো গুগলের জন্য নতুন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করেছে, যা বাজার পরিস্থিতিকে কিছুটা পরিবর্তন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় গুগলের জন্য স্বস্তির হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টিট্রাস্ট প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি খাতে সরাসরি হস্তক্ষেপে আদালতগুলোর অনীহা আবারও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

সাবরিনা রিমি/