জামায়াতের ‘জনতার ইশতেহার’: বেকারদের জন্য ঋণ ও নারীর নিরাপত্তার বিশেষ প্রতিশ্রুতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেল শেরাটনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘জনতার ইশতেহার’ নামক এই ঘোষণাপত্রটি উন্মোচন করবেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কেবল ভোটের রাজনীতি নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা হিসেবে এই ইশতেহারকে উপস্থাপন করছে দলটি।
জামায়াতের ইশতেহারে বেকারত্বকে দেশের প্রধান নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দলটির দাবি, তারা কেবল সরকারি চাকরির সংখ্যা বাড়ানোর কাগুজে প্রতিশ্রুতি না দিয়ে উৎপাদন ও দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইশতেহারে থাকছে: জেলা পর্যায়ে কারিগরি ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সুদমুক্ত ‘স্টার্টআপ’ তহবিল, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাতের প্রসারে রাষ্ট্রীয় সহায়তা।
নারী উন্নয়নের স্লোগানকে জামায়াত দেখছে নিরাপত্তা ও সম্মানের চশমায়। ইশতেহারে গার্মেন্টসহ শিল্পখাতে নারী শ্রমিকদের সমান মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি থাকছে। এছাড়া মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা, ডে-কেয়ার সুবিধা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচার কার্যকর করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।
ভর্তুকি নির্ভরতার চেয়ে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্যের ওপর জোর দিচ্ছে জামায়াত। এজন্য ‘ন্যায্যমূল্য আইন’ ও ‘ন্যূনতম মূল্য’ ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন এবং সার-বীজ সিন্ডিকেট ভেঙে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চমক হিসেবে থাকছে আগামী দুই বছর নতুন করে ট্যাক্স বা কর না বাড়ানো এবং গ্যাস-বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখার প্রতিশ্রুতি। দলটির মতে, দুর্নীতি বন্ধ করলে বর্তমান কর হার দিয়েই রাজস্ব দ্বিগুণ করা সম্ভব। অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত’ বেতন কাঠামো এবং একটি সৎ ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ার রূপরেখা থাকছে ইশতেহারে।
সমুদ্রকে কেবল সীমান্ত নয়, অর্থনীতির মূলধারা হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে জামায়াত। মৎস্য সম্পদ, জাহাজ নির্মাণ এবং সামুদ্রিক পর্যটনকে সমন্বিত করে আলাদা ‘ইকোনমিক জোন’ এবং গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, প্রায় ৩৭ হাজার মানুষের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে এই ‘জনতার ইশতেহার’ তৈরি করা হয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তির (অ্যাপ ও ওয়েবসাইট) মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।
লামিয়া আক্তার