
বিশ্বজুড়ে আকাশপথে যাত্রী চলাচল দ্রুত বাড়তে থাকায় বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (ACI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বিমানযাত্রীর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ দশমিক ২ বিলিয়নে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে যাত্রী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, লাগেজ ট্র্যাকিং, নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-ভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট, ইমিগ্রেশন ও বোর্ডিং এলাকায় ভিড় আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বিলম্ব কমাতে নেওয়া যাচ্ছে পূর্বাভাসভিত্তিক ব্যবস্থা, যা বিমানবন্দর পরিচালনাকে আরও দক্ষ করে তুলছে।
এ ছাড়া লাগেজ ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগেজ শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে বায়োমেট্রিক প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে অনেক বিমানবন্দরে যাত্রীদের শারীরিক পাসপোর্ট দেখানো ছাড়াই ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এয়ারপোর্ট এআই এক্সচেঞ্জের প্রধান এআই কর্মকর্তা আমাদ মালিক বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুই বছরে এআই-এর সক্ষমতা বহুগুণে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এআই প্রযুক্তি এখন স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন ও বোর্ডিং, লাগেজ হ্যান্ডলিং, যন্ত্রপাতির পূর্বাভাসভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাত্রীসেবায় ব্যক্তিগত সহায়তা প্রদানে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীরা আরও স্বচ্ছন্দ ও দ্রুত সেবা পাচ্ছেন।
তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির তুলনায় বিমান চলাচল খাতে এআই-এর ব্যবহার এখনও সীমিত বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিমান খাতে ব্যবহৃত অনেক প্রযুক্তিই পুরোনো এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
আমাদ মালিক আরও বলেন, “বিমান চলাচল মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এই খাতে উদ্ভাবনের চেয়ে নিরাপত্তা ও নিয়মনীতি বেশি গুরুত্ব পায়।”
তবুও ভবিষ্যতে যাত্রী চাপ আরও বাড়বে এই বাস্তবতায় বিমানবন্দরগুলোতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
সাবরিনা রিমি/









