সূর্যের কাছে প্রথমবার ‘ডার্ক ম্যাটার’ গুচ্ছের সন্ধান

মহাকাশে এমন এক অদৃশ্য পদার্থের গুচ্ছ বা সাবহ্যালোর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যা আলো বিচ্ছুরণ করে না, কিন্তু শক্তিশালী তৈরি করে।

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সূর্যের আশপাশের মহাকাশ এলাকায় ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য পদার্থ, যা আলো ছড়ায় না কিন্তু মাধ্যাকর্ষণ তৈরি করে) এর একটি বড় গুচ্ছ বা সাবহ্যালো খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন। এই আবিষ্কার আমাদের গ্যালাক্সিতে ডার্ক ম্যাটার কোথায় কীভাবে ছড়িয়ে আছে—তা বোঝার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।

ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা ইন হান্টসভিল এর বিজ্ঞানী সুকন্যা চক্রবর্তী নেতৃত্বাধীন দল এই প্রমাণ পেয়েছে। তাদের মতে, ডার্ক ম্যাটারের ওই গুচ্ছটির ভর সূর্যের ভরের প্রায় ১ কোটি গুণ। এটি সূর্য থেকে প্রায় ৩,২৬০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে।

গবেষকেরা এই তথ্য পেয়েছেন পালসার পর্যবেক্ষণ করে। পালসার হলো মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ, যা খুব দ্রুত ঘোরে এবং নিয়মিত বিরতিতে রেডিও তরঙ্গ পাঠায়; এক ধরনের মহাজাগতিক ঘড়ির মতো। বিজ্ঞানীরা ৫৩টি পালসার পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে পাশাপাশি থাকা দুইটি পালসারের সংকেতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়ে। ওই পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয়, কাছাকাছি কোথাও অদৃশ্য কোনো বিশাল বস্তুর মাধ্যাকর্ষণ টান কাজ করছে।

গবেষকেরা জানান, ওই এলাকায় এমন কোনো তারকা বা গ্যাসমেঘ পাওয়া যায়নি, যা এই টান ব্যাখ্যা করতে পারে। তাই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ডার্ক ম্যাটারকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হলে, এটি হবে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ভেতরে প্রথম ডার্ক ম্যাটার সাবহ্যালো শনাক্তের ঘটনা।

এদিকে, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ-এর নতুন তথ্য মহাবিশ্বের প্রথম দিককার সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল (অত্যন্ত ভারী কৃষ্ণগহ্বর) কীভাবে তৈরি হয়েছে—সে সম্পর্কেও নতুন ধারণা শক্তিশালী করছে। গবেষকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে বিশাল গ্যাসমেঘ সরাসরি ধসে খুব দ্রুত বড় ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে।

-মামুন