রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ: গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি, ১৪৩৭তম দিন

ছবিঃ সংগৃহীত

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ১,৪৩৭তম দিনে (শনিবার, ৩১ জানুয়ারি) পর্যন্ত পরিস্থিতির প্রধান ঘটনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলোঃ

জ্বালানি সংকট

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার রাতে দেওয়া ভিডিও ভাষণে বলেন, তীব্র শীতের মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়ই একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে।

তিনি বলেন,
“শুক্রবার রাত থেকে দেশের প্রায় সব অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনায় কোনো হামলা হয়নি। প্রায় একেবারেই না। শুধু দোনেৎস্ক অঞ্চলে একটি গ্যাস অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে -একটি আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা আঘাত হানে।”

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেন, মস্কো কেবল রোববার পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে।

পেসকভ বলেন,
“প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহ কিয়েভে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন, যাতে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।”

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানান, রাজধানী কিয়েভে এখনো ২৫৩টি আবাসিক ভবনে গরমের ব্যবস্থা নেই। চলতি সপ্তাহে রাতে তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি

ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে যাত্রীবাহী একটি মিনিবাসে রুশ বাহিনীর হামলায় ৪৮ বছর বয়সী চালক নিহত হন। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানান আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর প্রোকুদিন।

তিনি আরও জানান, গত এক দিনে খেরসন অঞ্চলে রুশ ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত হয়েছেন।

খেরসন অঞ্চলের নোভোওসিনোভে গ্রামের কাছে হামলায় ৪৭ বছর বয়সী এক নারী নিহত এবং ৫২ বছর বয়সী আরেক নারী আহত হয়েছেন বলে জানান গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ বাহিনী রাতভর একটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং ১১১টি ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্যে প্রায় ৮০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির রেল অবকাঠামোর ওপর সাতটি হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের তেরনুভাতে গ্রাম দখল করেছে। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, জাপোরিঝঝিয়ার রিচনে এবং পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের বেরেস্তক গ্রামও তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ইউক্রেনীয় যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ডিপস্টেট জানায়, রুশ বাহিনী দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের জ্লাহোদা দখল করেছে এবং সুমি অঞ্চলের হ্রাবোভস্কে ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের ইয়েহোরিভকার কাছে অগ্রসর হয়েছে।

রাজনীতি ও কূটনীতি

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, তিনি আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কিয়েভে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “যদি তিনি সাহস করেন।”
জেলেনস্কি আরও জানান, যেকোনো ধরনের আলোচনায় তিনি প্রস্তুত, তবে তিনি মস্কো বা বেলারুশে যাবেন না।

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন বলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে আরও শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন রুশ আইনপ্রণেতারা।

তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, “স্টেট দুমার সদস্যরা আরও শক্তিশালী অস্ত্র—‘প্রতিশোধমূলক অস্ত্র’ ব্যবহারের দাবি জানাচ্ছেন এবং বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের ওপর জোর দিচ্ছেন।”

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ পতাকাবাহী জাহাজগুলো রক্ষায় তারা “সব ধরনের উপলভ্য উপায়” ব্যবহার করবে। সম্প্রতি ফ্রান্সের নৌবাহিনী একটি সন্দেহভাজন রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’ তেল ট্যাংকার আটক করে ফ্রান্সের মার্সেই-ফোস বন্দরে নিয়ে যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানান, অর্থপাচারের ঝুঁকির কারণে রাশিয়াকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ইইউ।
তিনি বলেন, “এর ফলে রুশ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে লেনদেন ধীরগতির হবে এবং খরচ বাড়বে।”

সূত্রঃ আল জাজিরা

-বেলাল হোসেন