বাংলাদেশে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে এর অবস্থান বৈশ্বিকভাবে আরও শক্ত হয়েছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান চেইন অ্যানালাইসিস প্রকাশিত ২০২৫ গ্লোবাল ক্রিপ্টো অ্যাডপশন ইনডেক্স–এ বিশ্বের ১৫১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ১৩তম স্থানে। এর ফলে বৈশ্বিক ডিজিটাল মুদ্রা গ্রহণের তালিকায় শীর্ষ ২০ দেশের কাতারে রয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সূচকে বাংলাদেশ ছিল ১৭তম অবস্থানে। এক বছরের ব্যবধানে চার ধাপ এগিয়ে এই অগ্রগতি দেখাচ্ছে, তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রিপ্টো ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তালিকায় বাংলাদেশ এখন ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের মতো বড় অর্থনীতির দেশের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
চেইন অ্যানালাইসিস জানায়, এই সূচক তৈরি করা হয়েছে কেবল লেনদেনের আর্থিক পরিমাণের ভিত্তিতে নয়; বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতা কতটা বিস্তৃত, তা বিবেচনায় রেখে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলো বর্তমানে বৈশ্বিক ক্রিপ্টো ইকোসিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০২৫ সালের সূচকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত। দেশটির বিশাল জনসংখ্যা, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি এই অবস্থান নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র উন্নত দেশ হিসেবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সংগৃহীত বৈশ্বিক তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টো গ্রহণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে সাতটি দেশই নিম্ন-মধ্যম আয়ের।
বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রেমিট্যান্স পাঠানো, অনলাইন গেমিং এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি থেকে সম্পদ সুরক্ষার বিকল্প উপায় হিসেবে অনেকেই অনানুষ্ঠানিক পথে ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন।
সূত্র: চেইন অ্যানালাইসিস
সাবরিনা রিমি/










