মামলা বাণিজ্য বিচার ব্যবস্থাকে হত্যার শামিল। জুলাই আন্দোলনের পর একটি গোষ্ঠী হাজার হাজার আসামি দিয়ে মামলা করে মানুষকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্য দিকে মহিলাদের গায়ে হাত—দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। এটিই বার্তা, তারা জিতলে কেউ নিরাপদ থাকবে না।’
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে আইনের অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করা যাবে না। তিনি জানান, তাদের দল এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি মামলা করেছে, যেখানে আসামির সংখ্যা সর্বোচ্চ ৯৮ জন।
যশোরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। পাল্লার মাপে কোনো কম-বেশি করব না। যার যা প্রাপ্য, তাকে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’ ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুল–এর সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এবং বিভিন্ন আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা সভায় বক্তব্য দেন।
নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে যশোর ঈদগাহ ময়দানে বিপুল জনসমাগম হয়। ভোররাত থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ময়দানে জড়ো হতে থাকেন।
সকাল সাড়ে আটটার পর ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জনসভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে ছিল জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে যশোরের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা হবে।
-মামুন










