খালিয়াজুরীতে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এগোলেও অর্থ ছাড়ে ধীরগতি

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় নেওয়া বাঁধ সংস্কার কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হলেও নিয়ম অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দের অর্থ এখনো ছাড় না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা। পকেটের টাকা খরচ করে কাজ চালিয়ে যেতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এতে কেউ কেউ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরে খালিয়াজুরী উপজেলায় ২০ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়। পাউবোর কারিগরি সহায়তায় ১৪৩টি পিআইসির মাধ্যমে উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরে প্রায় ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। এসব কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি।

উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বোরো জমির দেড় লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধানকে আগাম বন্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতেই এই বাঁধ সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজের গতি ও মান সন্তোষজনক। ইতোমধ্যে ৩৮ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক পিআইসি সভাপতি নিজেদের ধারদেনা করা টাকায় প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ করেছেন, অথচ এখন পর্যন্ত কোনো কিস্তির অর্থ পাননি।

নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর পোল্ডারের একটি পিআইসির সভাপতি পরিতোষ সামন্ত বলেন, “আমাদের এলাকার অনেক প্রকল্পের কাজ ৫০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। কিন্তু নিয়ম ও কাজের অনুপাত অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত কোনো কিস্তির সরকারি বরাদ্দের টাকা পাইনি। এভাবে আর কতদিন নিজেদের গাঁটের পয়সা খরচ করে কাজ চালানো সম্ভব?”

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান কেষ্টু। তিনি বলেন, “বরাদ্দের টাকা ছাড়ে দেরি হলে পিআইসি সদস্যদের মধ্যে কাজের অনীহা তৈরি হবে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে, যা হাওরের কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।”

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী পিআইসিগুলোর অর্থ কয়েক দিনের মধ্যেই পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।”

মহসিন মিয়া,নেত্রকোনা