‘তিন বছর পর তো তারা বের হয়ে আমাদের মারবে’: ট্রাইব্যুনালে শহীদ আনাসের মা

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দিপ্তী এবং শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার। ভিডিও ফুটেজসহ অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও ৫ পুলিশ সদস্যকে মাত্র ৩ থেকে ৬ বছরের লঘু কারাদণ্ড দেওয়ায় তারা এই রায়কে ‘শহীদ পরিবারের সঙ্গে বৈষম্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তিন কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় শেষে শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান দিপ্তী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “সন্তানের খুনির ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও যদি তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, সেটা কি আসলেই যৌক্তিক? আমি আমার সন্তান হারাইছি। সব প্রমাণ দেওয়ার পরও যদি এমন রায় হয়, তবে ভবিষ্যতে এরা আরও মানুষ মারবে।”

লঘু দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ কনস্টেবল ও এক পরিদর্শক বর্তমানে গ্রেপ্তার থাকলেও পলাতক রয়েছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। শহীদ পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, সাজা শেষ করে এই পুলিশ সদস্যরা যখন বেরিয়ে আসবে, তখন তাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না। আনাসের মা বলেন, “তিন বছর পর তারা বাইর হইয়া যাইব। এরা আমাদের চেনে, আমরা তো এদের চিনি না। তখন আমাগো কী করব? আমার ছোট বাচ্চা আছে, আমার মেয়ে আছে। আজকের এই রায়ে আমার সাহস ভাইঙ্গা গেছে।”

অনুরূপ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার। তিনি বলেন, “আমাদের জীবনের সেফটি কী? তিন বছর পরে খুনিরা বাইর হইয়া যাইব। আমার নাতি-নাতনিরা যখন স্কুলে যাইব, তারা যে কিডন্যাপ হবে না-তার গ্যারান্টি কে দেবে? আমরা নিজেদের জান নিয়ে শঙ্কিত।”

রায়ের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত (৩ জন): ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। (তিনজনই পলাতক)

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত (৫ জন): সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুল (৬ বছর), পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন (৪ বছর) এবং কনস্টেবল সুজন, ইমন ও নাসিরুল ইসলাম (প্রত্যেকের ৩ বছর করে)।

শহীদ পরিবারের সদস্যরা ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—সরাসরি গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার সাজা কেন মাত্র তিন বছর হবে? তারা এই রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

লামিয়া আক্তার