তুলসীপাতা দিয়ে রূপচর্চা প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও ঘরোয়া সৌন্দর্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তুলসীকে শুধু পবিত্র গাছ হিসেবেই নয়, প্রাকৃতিক ঔষধি গুণে ভরপুর এক অসাধারণ উপাদান হিসেবেও ধরা হয়। ত্বক পরিষ্কার রাখা, ব্রণ কমানো, উজ্জ্বলতা বাড়ানো এবং চুলের যত্নে তুলসীপাতার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
তুলসীপাতায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান, যা ত্বকের ভেতরের জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। যাদের ত্বকে বারবার ব্রণ বা ফুসকুড়ি হয়, তাদের জন্য তুলসীপাতা খুবই উপকারী। নিয়মিত তুলসীপাতার রস বা পেস্ট ব্যবহার করলে ত্বকের প্রদাহ কমে এবং ব্রণের দাগ হালকা হতে শুরু করে। ত্বক ধীরে ধীরে পরিষ্কার ও মসৃণ দেখায়।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও তুলসীপাতা কার্যকর। তুলসীপাতা বেটে গোলাপজল বা কাচা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয়। এতে ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং মুখে স্বাভাবিক জেল্লা আসে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়।
তুলসীপাতা ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যাদের ত্বক খুব তেলতেলে, তাদের ক্ষেত্রে তুলসীপাতার রস ত্বকে লাগালে তেলাভাব কমে এবং রোমকূপ পরিষ্কার থাকে। ফলে ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। গরমের সময়ে এই উপাদান ত্বকে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়, যা আরামদায়ক।
শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও তুলসীপাতা দারুণ কাজ করে। তুলসীপাতা ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুলে খুশকি কমে এবং মাথার ত্বক পরিষ্কার থাকে। চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুল পড়া কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসে। তুলসীর পুষ্টিগুণ চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা যোগ করে।
সব মিলিয়ে তুলসীপাতা দিয়ে রূপচর্চা একটি সহজ, নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বক ও চুল দুইই থাকবে সুস্থ, পরিষ্কার এবং সুন্দর। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়াই ভালো।
বিথী রানী মণ্ডল/










