বর্তমান প্রজন্মের শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী। খুব অল্প সময়ে সংগীতপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আধুনিক, পপ ও ফোক ঘরানায় তার স্বতন্ত্র কণ্ঠধারা ও আবেগময় সুর তাকে দ্রুত জনপ্রিয় করেছে। চলচ্চিত্রের জন্য গেয়ে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও জিতেছেন। সংগীতের পাশাপাশি চিকিৎসা পেশায়ও সক্রিয় ঐশী বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক প্রতিভাবান এবং উদীয়মান শিল্পীর প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তিনি নিজের ব্যস্তজীবন, নতুন গান, পড়াশোনা এবং দেশের সঙ্গে সংযোগের দৃষ্টিকোণ নিয়ে কথা বলেছেন।
স্টেজ শোয়ের মৌসুমে ব্যস্তসময় পার করছেন ঐশী। তার ওপর এবার সেই ব্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরীক্ষার চাপ। ফলে জীবনটা এখন একেবারেই ভিন্ন এক ছন্দে চলছে তার। এই ব্যস্ততা প্রসঙ্গে ঐশী বলেন, ‘জীবনটা এখন খুব আলাদা রকম লাগছে। একদিকে গান, অন্যদিকে পড়াশোনা আর পরীক্ষার প্রস্তুতি, সব একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন এক অন্যরকম জীবনের মধ্যে আছি আমি, একেবারে ‘জাগো বাংলাদেশ’ অবস্থার মতো।’
কাজের পরিকল্পনা নিয়েও বেশ আশাবাদী ঐশী। তার কথায়, এ মুহূর্তে তিনি নিজের কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের সময়টা দারুণভাবে উপভোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘এই গানগুলো আমার নিজেরই পছন্দ হবে। মানে আমি নিজেই বারবার শুনতে চাইব।’ ঐশীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজের মধ্যে থাকা। তার বিশ্বাস, যখন একটার পর একটা কাজ হতে থাকে, তখন সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই ধাপে ধাপে সব ঠিক হয়ে যায়।
ব্যস্ততা প্রসঙ্গে ঐশীর উপলব্ধি, কাজের মধ্যে ডুবে থাকলেই সময়টা সুন্দর হয়ে ওঠে। একটার পর একটা প্রজেক্ট, নতুন গান, নতুন ভাবনা, সব মিলিয়ে তার মনে হয়, এভাবেই ব্যস্ত থাকতে পারলে বছরটা এমনিতেই ভালো কেটে যাবে।
নতুন কাজ নিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী ঐশী। তিনি জানান, যেসব গানের কথা তিনি বলছিলেন, সেগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যেই পাঁচটি নতুন গান সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। অর্থাৎ গানগুলো তৈরি হয়ে আছে, এখন কেবল উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা।
ঐশীর ভাষায়, সঠিক সময় বুঝে এবং গানগুলোর জন্য উপযুক্ত মুহূর্ত এলেই তিনি সেগুলো প্রকাশ করবেন। যদিও এখনো প্রকাশ হয়নি, তবে গানগুলো একেবারেই তার সঙ্গে আছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জীবনটা সুন্দর হলে সবকিছুই সুন্দর লাগে। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গানকে ঘিরে যে জীবনটা, যে সংসারটা তৈরি হয়েছে, সেখানে তিনি কতটা সুখী। গানের সঙ্গে নিজের এই সম্পর্ক, এই সন্তুষ্টিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
গানের বাজার নিয়ে আশাবাদী ঐশী। তার মতে, বর্তমান সময়ে গান নিয়ে কাজ করার পরিবেশ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। যারা সত্যিকার অর্থে গানকে ভালোবাসেন, তারা মন থেকে চেষ্টা করছেন ভালো ও মানসম্মত গান তৈরির জন্য।
ঐশীর বিশ্বাস, প্রত্যেকে যদি নিজের জায়গা থেকে আন্তরিকভাবে ভালো কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তাহলে সম্মিলিতভাবেই একটি সুন্দর গানের জগৎ তৈরি করা সম্ভব। এই যৌথ প্রচেষ্টার ফলেই সামনে আরও সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ বাংলা গানের সময় আসবে বলে মনে করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘সবার চেষ্টার শেষ ফল হিসেবে আমরা পাব অনেকগুলো ভালো বাংলা গান। আর সেটাই ভবিষ্যতে শ্রোতাদের জন্য একটি সুন্দর ও প্রাণবন্ত গানের ভুবন গড়ে তুলবে।
ঐশী জানান, তার সময় এখন পুরোপুরি ভাগ হয়ে গেছে। ডাক্তারি পড়াশোনা এবং গান এই দুটির মধ্যে। তার জীবনে এই দুই কাজের বাইরে আর অন্য কোনো সময় নেই। মাঝে মাঝে তিনি নিজেও মনে করেন, একদিন যেন ৪৮ ঘণ্টা হোক, কারণ ২৪ ঘণ্টা একেবারেই কম মনে হয়।
তিনি স্পষ্ট করেন, এই দুইটি ক্ষেত্রেই থাকতে চান তিনি, কারণ এগুলোই তার প্রকৃত ভালোবাসা। যদিও অনেকের ভিন্ন মত থাকতে পারে বা অন্য কিছুতে আগ্রহ থাকতে পারে, তার জন্য অভিনয় জগতে প্রবেশের কোনো বিশেষ আকর্ষণ নেই। তার কাছে গান আর চিকিৎসা, এটাই তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু।
ঐশী দেশের চলমান পরিবর্তনকে গভীরভাবে অনুভব করছেন। তার মতে, ‘আমরা সবাই এখন এক ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি’, যা তিনি বিশ্বাস করেন, মূলত ভালোর জন্য।
এই গায়িকা বলেন, ‘পরিবর্তন যখন আসে, তখন আমাদেরকে তার সঙ্গে খাপখাইয়ে নিতে হয়। এই সময়টা দরকারি মনোযোগ এবং ধৈর্যের, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কাজের গতি কিছুটা ধীর হয়ে যায়।’
ঐশীর বিশ্বাস, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে। যখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে, তখন আবার সব আগের ফ্লোতে চলে আসবে এবং কাজকর্মও পুনরায় স্বাভাবিকভাবে এগোবে।’
মাহমুদ সালেহীন খান










