প্রবীর মিত্রের পুরো নাম প্রবীর কুমার মিত্র। ১৯৪১ সালের ১৮ আগস্ট চাঁদপুরের নতুনবাজার গুয়াখোলায় মামার বাড়িতে তার জন্ম। দাদার বসতবাড়ি ছিল কেরানীগঞ্জে। পুরান ঢাকায় বেড়ে ওঠা প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও নাট্যচর্চা— সবকিছুতেই ছিল তার সক্রিয় অংশগ্রহণ।
তিনি জানান, ঢাকার পোগোজ স্কুলে পড়াকালে ফার্স্ট ডিভিশনে ক্রিকেট খেলেছেন। শুধু ক্রিকেট নয়, হকি ফার্স্ট ডিভিশনেও খেলতেন তিনি। ফুটবলে খেলেছেন সেকেন্ড ডিভিশনে, পরে ফার্স্ট ডিভিশনে ওঠার সুযোগও পেয়েছিলেন। তবে সেখানেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবার। ফার্স্ট ডিভিশনে ওঠার পর বাসা থেকে খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্কুলজীবনে ছিলেন দাপুটে ক্রীড়াবিদ, কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই পরিচয় ঢেকে যায় অভিনেতা পরিচয়ের আড়ালে। খ্যাতিমান অভিনেতা প্রবীর মিত্র শুধু রুপালি পর্দার মানুষ ছিলেন না, একসময় ক্রিকেট, হকি, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টনের মাঠেও নিয়মিত বিচরণ ছিল তার। আজ তার প্রয়াণের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৫ সালের এই দিনেই ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী শিল্পী। দিনটি ঘিরে ভক্ত, সহকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্মরণ করছেন, শেয়ার করছেন তার ছবি ও কাজের মূল্যায়ন।
সাক্ষাৎকারে প্রবীর মিত্র বলেছিলেন, আসলে তার সাংস্কৃতিক জগতে আসার কথা ছিল না। নিজেকে তিনি স্পোর্টসম্যান হিসেবেই ভাবতেন। সারা বছর মাঠে পড়ে থাকতেন, খেলাধুলাই ছিল জীবনের মূল আনন্দ। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্ত ও সময়ের বাস্তবতায় খেলোয়াড় হিসেবে পথচলা থেমে যায়। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দেন তিনি।
স্কুলজীবন থেকেই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রবীর মিত্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে তার প্রথম উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। এরপর চলচ্চিত্রের পথে যাত্রা। ১৯৬৯ সালে প্রয়াত এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। যদিও ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি।
খেলোয়াড় থেকে অভিনেতা— দুই পরিচয়ের এই মানুষটি আজ নেই, কিন্তু তার কাজ, স্মৃতি আর অবদান বেঁচে থাকবে দীর্ঘদিন। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আবারও ফিরে আসছেন প্রবীর মিত্র।
ক্যারিয়ারের শুরুতে কয়েকটি চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবেও দেখা গেছে প্রবীর মিত্রকে। পরবর্তী সময়ে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন আরও দৃঢ়ভাবে। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সেয়ানা’, ‘জালিয়াত’, ‘ফরিয়াদ’, ‘রক্ত শপথ’, ‘চরিত্রহীন’, ‘জয়-পরাজয়’, ‘অঙ্গার’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘মধুমিতা’, ‘অশান্ত ঢেউ’, ‘অলংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘তরুলতা’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘পুত্রবধূ’সহ চার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিথী রানী মণ্ডল/










