কলকাতার বাইরে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে এ বার হেনস্থার শিকার হলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মিমির অভিযোগ, অনুষ্ঠানের একেবারে শুরুতেই আচমকা এক ব্যক্তি মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি জানান। অভিনেত্রীর কথায়, অনুষ্ঠান শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তনয় শাস্ত্রী নামের ওই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি চলে যান।’ এমন আচরণে প্রথমে তিনি এতটাই হতবাক হয়ে যান যে বিষয়টি ঠিক বুঝতেই পারেননি। পরে বুঝতে পেরে অপমানিত ও বিস্মিত হয়ে পড়েন তিনি।
মিমি জানান, ওই ব্যক্তি একাধিকবার একই কথা বলেন। পরিস্থিতি আর জটিল না করে তিনি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের শুভরাত্রি জানিয়ে মঞ্চ ছেড়ে চলে আসেন। এরপরই তিনি স্থানীয় থানার আইসির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং পুরো ঘটনার কথা জানান। পরে ই-মেলের মাধ্যমে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মিমি চক্রবর্তী। তার কথায়, পুলিশ ও প্রশাসন পুরোমাত্রায় সহযোগিতা করছে। আশা করা হচ্ছে, বিকেলের মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং পেছনের পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিমি। তার মতে, বর্তমানে মঞ্চানুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে শিল্পীদের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত চিন্তার। তিনি বলেন, “মঞ্চে যে সমস্ত শিল্পী অনুষ্ঠান করতে যান, তাঁদের আজকাল যেন লোকে তাঁদের সম্পত্তি ভাবা শুরু করেছেন।” এই মানসিকতাই ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা তার।
মিমির বক্তব্য, আজ তিনি এই ঘটনার শিকার হয়েছেন, কিন্তু আগামী দিনে অন্য কোনও মহিলা শিল্পীকেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাই সকল শিল্পীর উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। কার সঙ্গে, কোথায় অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর কিছু দিন আগেই অভিনেত্রী লগ্নজিতা চক্রবর্তীও পূর্ব মেদিনীপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে আপত্তিকর আচরণের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরপর এই ধরনের ঘটনায় রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। নিজের রাজ্যেই শিল্পীদের এমন হেনস্থা হওয়া কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত অনেকেরই। এখন দেখার, তদন্তের শেষে এই ঘটনার কী পরিণতি হয় এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।
বিথী রানী মণ্ডল/










