বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় মালবাহী ট্রাক চালক মো. হোসেন এবং অটোরিকশা চালক সবুজ হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৪১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম দুই মামলায় মোট ৬৪ আসামির বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।
হোসেন হত্যা মামলা: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ট্রাক চালক মো. হোসেন। এ ঘটনায় ৩১ আগস্ট তাঁর মা মোসা. রীনা বেগম শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৩ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ২০ জনই বর্তমানে পলাতক থাকায় আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন।
পরোয়ানাভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদ্দাম হোসেন এবং শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। উল্লেখ্য যে, এই মামলায় সাবেক এমপি সাদেক খান ও জুনাইদ আহমেদ পলকসহ চারজন কারাগারে রয়েছেন এবং ১০ জন জামিনে আছেন।
সবুজ হত্যা মামলা: আন্দোলনের শেষ দিকে ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছরের যুবক সবুজ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। সবুজের ভাই মনির হোসেন বাদী হয়ে ১ সেপ্টেম্বর ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। যদিও এজাহারে শেখ হাসিনার নাম ছিল না, তবে তদন্ত শেষে গত ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এই মামলায় ২১ জন পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধেও আজ পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামাল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন শুনানিতে জানান, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা ও উসকানির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পলাতক আসামিরা দেশের বাইরে বা আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।