আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস: প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

অতন্দ্র প্রহরা ও দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপিত হচ্ছে। ১৮তম বার্ষিক দিবসটি বাংলাদেশসহ ১৮৬টি ডব্লিউসিও সদস্য দেশে একযোগে পালিত হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে এই দিনটি কাস্টমস দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়ে বাংলাদেশে উদযাপন হয়ে আসছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাণীতে বলা হয়েছে, কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা গ্রহীতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণ, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, সীমান্ত অংশীদারিত্ব জোরদারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সরকার স্বচ্ছ, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কাস্টমস প্রশাসনকে অবৈধ বাণিজ্য, চোরাচালান, মাদক ও অর্থপাচার রোধে সাহায্য করছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে।

দিবসের মধ্যে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষ্যে সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। এনবিআরের মাল্টিপারপাস হলে বিকেলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি থাকবেন। সদস্য (কাস্টমস: পলিসি ও আইসিটি) মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশেষ অবদানের জন্য যোগ্য কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে ডাব্লিউ সার্টিফিকেট অব মেরিট প্রদান করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য টেলিভিশন চ্যানেলে মতবিনিময় সভা, আলোচনা, পোস্টার, স্টিকার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ হাজার ২০ কোটি টাকা বেশি।

কাস্টমস প্রশাসনের আন্তর্জাতিক সংগঠন ১৯৫০ সালে ব্রাসেলসে গঠিত হয়। ১৯৫২ সালে কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১৯৫৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ইউরোপের ১৭টি দেশ প্রথম সেশনে অংশ নেন। ১৯৯৪ সালে সিসিসি’র নাম পরিবর্তন করে গঠিত হয় ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন। বর্তমানে ১৮৬টি দেশ সদস্য, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১৯৩ দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আফরিনা সুলতানা/