পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক জাপানে অনুষ্ঠিতব্য ‘সাকুরা সায়েন্স প্রোগ্রাম ২০২৫’এ অংশ হিসেবে শীমানে ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছেন। রবিবার দুপুর দেড়টায় সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারী থেকে ৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এটি আয়োজন করছে জাপানের শীমানে ইউনিভার্সিটি।
এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে পাবিপ্রবির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেবেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রহিম। অংশগ্রহণকারী তিন শিক্ষার্থীই সিএসই বিভাগের। তারা হলেন স্নাতক সম্পন্ন করা মো. রায়হানুল হক এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু মোহাম্মদ নুর ও মো. বাদল হোসেন।
সাকুরা সায়েন্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা জাপানে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে। এই প্রোগ্রামে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,উন্নত গবেষণা পদ্ধতি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণা সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রহিম বলেন,আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো জাপানের প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রমগুলো কাছ থেকে দেখা এবং সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা। বিশেষ করে সেখানে আন্ডারওয়াটার প্রযুক্তি নিয়ে যে গবেষণাগুলো চলছে, সেগুলোর ডাটা কালেকশন ও কাজের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব গবেষণার বড় একটি অংশই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সভিত্তিক, যা ভবিষ্যতে আমাদের গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল এ প্রসঙ্গে বলেন,পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক গবেষণা ও একাডেমিক এক্সপোজারের অংশ হিসেবে আমরা নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছি। এর আগেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত সদস্যের একটি দল জাপানে গিয়ে সাকুরা সায়েন্স প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিল। সেই সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল এবং গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায় এবার আবারও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাবে, যা তাদের চিন্তাভাবনা ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরোও বলেন,এবারের কর্মসূচিতে পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থীরাও যৌথভাবে কাজ করবে। এতে করে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, দলগত গবেষণা এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বিত গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিময় কর্মসূচি আমাদের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানের গবেষক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং পাবিপ্রবির গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ভাস্কর চন্দ্র রায়,পাবিপ্রবি প্রতিনিধি










