দিনে কয়বার দাঁত ব্রাশ করা উচিত—এই প্রশ্নটি খুবই সাধারণ, কিন্তু এর উত্তর জানাটা দাঁতের সুস্থতার জন্য ভীষণ জরুরি। দন্তচিকিৎসকদের মতে, সুস্থ দাঁত ও মাড়ি রাখতে দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ করা সবচেয়ে আদর্শ। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর একবার এবং রাতে ঘুমানোর আগে আরেকবার দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস সবচেয়ে কার্যকর বলে ধরা হয়।
সকালে ব্রাশ করার মূল উদ্দেশ্য হলো রাতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও প্লাক দূর করা। আমরা যখন ঘুমাই, তখন মুখে লালা উৎপাদন কমে যায়। ফলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়ে এবং মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। সকালের ব্রাশ এই জীবাণু দূর করে মুখকে সতেজ রাখে। অন্যদিকে রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সারাদিন খাওয়া-দাওয়ার পর দাঁতের ফাঁকে খাবারের কণা জমে থাকে। এগুলো পরিষ্কার না করলে রাতে ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে দাঁত ক্ষয়, ক্যাভিটি ও মাড়ির রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
অনেকে মনে করেন দিনে তিন বা চারবার ব্রাশ করলে দাঁত আরও ভালো থাকবে। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত ব্রাশ করাও ক্ষতিকর হতে পারে। খুব ঘনঘন বা জোরে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে পারে এবং মাড়ি সরে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া বারবার ব্রাশ করা ঠিক নয়। তবে যদি কেউ খুব মিষ্টি বা আঠালো খাবার খান, সে ক্ষেত্রে কুলি করা বা মাউথওয়াশ ব্যবহার করাই ভালো।
দাঁত ব্রাশের পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতিও জরুরি। নরম ব্রিসলের টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত এবং অন্তত দুই মিনিট সময় নিয়ে ধীরে ধীরে ব্রাশ করতে হয়। ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দাঁতকে শক্ত রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দিনে একবার ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নিয়মিত দিনে দু’বার সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করাই সুস্থ দাঁত ও সুন্দর হাসির জন্য যথেষ্ট।
বিথী রানী মণ্ডল/










