
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করছে নাসা। এরই ধারাবাহিকতায় নাসার তৈরি একটি উন্নত এআই মডেল, যা আগে ৩৭০টি নতুন এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত করেছিল, এবার কাজ শুরু করেছে ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট (TESS) এর বিপুল তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণে।
এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা সূর্যের বাইরের নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান ৬ হাজারের বেশি এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করেছেন। এর অর্ধেকেরও বেশি শনাক্ত হয়েছে নাসার অবসরপ্রাপ্ত কেপলার মিশন এবং বর্তমানে সক্রিয় TESS মিশন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। তবে এসব মিশনের সংগৃহীত বিপুল ডেটার বড় অংশ এখনো পুরোপুরি বিশ্লেষণ করা হয়নি।
এক্সোমাইনার থেকে এক্সোমাইনার++
২০২১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত নাসার এমস রিসার্চ সেন্টার–এর একদল বিজ্ঞানী তৈরি করেন ExoMiner নামের একটি ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার। এই এআইভিত্তিক টুলটি কেপলার ডেটা বিশ্লেষণ করে ৩৭০টি নতুন এক্সোপ্ল্যানেট নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
এরই উন্নত সংস্করণ হিসেবে তৈরি হয়েছে ExoMiner++, যা কেপলার ও TESS উভয় মিশনের ডেটায় প্রশিক্ষিত। নতুন এই মডেলটি সাম্প্রতিক সময়ে TESS ডেটার ওপর চালানো প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্রায় ৭ হাজার সম্ভাব্য এক্সোপ্ল্যানেট সংকেত শনাক্ত করেছে। এসব সংকেতকে আপাতত ‘এক্সোপ্ল্যানেট প্রার্থী’ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেগুলো নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হবে।
কীভাবে কাজ করে এআই মডেলটি
TESS ও কেপলার মূলত নক্ষত্রের আলো সামান্য ম্লান হওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে গ্রহ শনাক্ত করে যা ঘটে কোনো গ্রহ তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে। তবে এই ধরনের সংকেত অনেক সময় দ্বৈত নক্ষত্র বা অন্যান্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার কারণেও তৈরি হতে পারে।
ExoMiner++ এই বিশাল সংকেতসমষ্টি বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করে কোনটি আসল গ্রহের কারণে এবং কোনটি অন্য কোনো ঘটনার ফল। গবেষকদের মতে, লক্ষ লক্ষ সংকেতের ভিড়ে এই ধরনের ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।
ওপেন সোর্স ও উন্মুক্ত বিজ্ঞান
ExoMiner++ কে গিটহাবে বিনামূল্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে, ফলে বিশ্বের যে কোনো গবেষক এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে TESS এর উন্মুক্ত ডেটা থেকে নতুন গ্রহ অনুসন্ধান করতে পারবেন। নাসার প্রধান বিজ্ঞান ডেটা কর্মকর্তা কেভিন মারফির ভাষায়, ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের গতি বাড়ায় এবং গবেষণাকে আরও স্বচ্ছ ও পুনরুত্পাদনযোগ্য করে তোলে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমানে ExoMiner++ সম্ভাব্য ট্রানজিট সংকেতের তালিকা পেলে সেখান থেকে গ্রহ চিহ্নিত করতে পারে। ভবিষ্যৎ সংস্করণে মডেলটিকে এমনভাবে উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এটি সরাসরি কাঁচা ডেটা থেকেই নিজে নিজে সংকেত শনাক্ত করতে পারে।
এ ছাড়া সামনে আসছে নাসার ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ, যা হাজার হাজার এক্সোপ্ল্যানেট ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ করবে। সেই ডেটাও উন্মুক্ত থাকবে এবং সেখানে ExoMiner++ এর মতো এআই মডেল বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, উন্মুক্ত তথ্য ও উন্মুক্ত সফটওয়্যারের কারণেই এক্সোপ্ল্যানেট গবেষণা এত দ্রুত এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা আরও জোরদার হবে।
সূত্র: নাসা (NASA)
সাবরিনা রিমি/









