মূল্যস্ফীতি না নামায় নীতি সুদহারে পরিবর্তন নয়

মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় না নামায় এবারও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ধারা অব্যাহত রাখা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাস পরপর আগাম মুদ্রানীতির অবস্থান তুলে ধরে। সেখানে মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে মুদ্রা সরবরাহ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানো বা কমানোর প্রধান উপকরণ হিসেবে নীতি সুদহার ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে অবস্থান করায় তা নিয়ন্ত্রণে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুই মাসে তিন দফায় ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। ওই বছরের নভেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে কমতে কমতে গত অক্টোবরে তা ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে আসে। পরে আবার বেড়ে নভেম্বরে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়ায়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডলারের বিনিময় হার দীর্ঘ সময় ধরে ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। ডলার সংগ্রহে বর্তমানে কোনো জটিলতা দেখা যাচ্ছে না। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পাঁচটি পণ্যের দাম বাড়ার কারণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। সেখানে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বেশি লাভের আশায় ধানের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি। এর ফলে চালের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

আফরিনা সুলতানা/