২০১১ সালে হাইকোর্ট শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করলেও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের হাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ায় অভিভাবকদের মাঝে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র উপেক্ষা করেই দেশের স্কুল-মাদরাসাগুলোতে অব্যাহত রয়েছে শিক্ষার্থী নির্যাতন। সম্প্রতি রাজধানীর একটি স্কুলে শিক্ষার্থীর হাড় ভেঙে দেওয়া এবং বরিশালে দন্তচ্যুত করার মতো ভয়াবহ ঘটনার পর শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর প্রায় ৮৮ শতাংশ শিশু কোনো না কোনোভাবে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ শিশুই নির্যাতিত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বিশেষ করে ১০ বছর বয়সের আগেই অধিকাংশ শিশুর প্রথম নির্যাতনের অভিজ্ঞতা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী বেত্রাঘাত, কান টানা, রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা বা চিমটি কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও অনেক শিক্ষক একে প্রয়োজনীয় মনে করছেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নজরদারির অভাব এবং শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতিই এই প্রবণতা বন্ধ না হওয়ার প্রধান কারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা জরুরি। একই সঙ্গে নির্যাতনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক সংগঠনগুলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক বা মানসিক আঘাত করা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী এবং এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সচেতন মহলের মতে, ‘বেত মেরে মানুষ করার’ পুরনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে না এলে সুস্থ ও বিকশিত প্রজন্ম গঠন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
-মালিহা










