বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে হেসেখেলেই শিরোপা নিশ্চিত করে দলটি। পুরো আসরজুড়েই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে অন্যতম ফেভারিট ছিল রাজশাহী।
বড় নাম নয়, ভারসাম্যই ছিল রাজশাহীর শক্তি
তারকা নির্ভরতার বদলে তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মিশ্রণে ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনে গুরুত্ব দেয় রাজশাহী। নিলামের আগেই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো দলটি মাঠের পারফরম্যান্সেই তার প্রতিফলন দেখিয়েছে।
আসরজুড়ে অনেক ক্রিকেটারকে খেলানোর সুযোগ পায়নি রাজশাহী। তরুণ ওয়াসি সিদ্দিকী, জিসান আলম ও শাখির শুভ্র কোনো ম্যাচই খেলেননি। তবে ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, দল জয়ের পেছনে তাদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। শান্তের ভাষায়, ‘যাদের খেলাতে পারিনি, তারা কখনো আপসেট ছিল না। মাঠে বা অনুশীলনে সবাই শতভাগ দিয়েছে।’
অধিনায়ক হিসেবে কঠিন সিদ্ধান্ত সামলানোর চ্যালেঞ্জ
একাদশ নির্বাচনকে কঠিন কাজ হিসেবে উল্লেখ করে শান্ত বলেন, পেশাদার জায়গা থেকে দলের প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে। যাঁরা খেলেননি, তাঁদের সমর্থন অধিনায়ক হিসেবে তাঁর কাজ সহজ করেছে বলেও জানান তিনি।
জিসান আলমকে উদাহরণ টেনে শান্ত বলেন, ম্যাচ না খেললেও অনুশীলনে নিবেদন, প্রস্তুতি ও দলের জন্য ভাবনাই একজন তরুণকে এগিয়ে নেয়। তাঁর মতে, জিসানের এই উন্নতি ভবিষ্যতে তাকে নেতৃত্বের জায়গায়ও নিয়ে যেতে পারে।
নতুন বিপিএল ট্রফিতে সন্তুষ্ট চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক
এবারের বিপিএলে নতুন ডিজাইনের ট্রফি নিয়ে শান্ত বলেন, নতুনত্ব ভালো লেগেছে। তবে তাঁর মতে, ট্রফির চেহারার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কীভাবে শিরোপা জেতা হলো।
নিলামের আগেই শুরু পরিকল্পনা, কোচের ভূমিকায় প্রশংসা
রাজশাহীর অধিনায়ক জানান, নিলামের অনেক আগেই কোচ হান্নান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দল গঠন করা হয়েছিল। প্রথমবার বিপিএলে কোচের দায়িত্ব নিয়েই হান্নান সরকার শুরু থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
শান্ত বলেন, ‘হান্নান ভাই অসাধারণ কাজ করেছেন। রেজাল্টই তার প্রমাণ। পরিকল্পনা আর কমিটমেন্ট দুটোই ছিল শক্ত।’
চাপমুক্ত পরিবেশে সহজ অধিনায়কত্ব
প্রথমবার বিপিএলে অধিনায়ক হয়ে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতাকে বিশেষ বলে উল্লেখ করেন শান্ত। তিনি জানান, মালিকপক্ষের পূর্ণ আস্থা ও স্বাধীনতার কারণে দলের পরিবেশ ছিল চাপমুক্ত, যা নেতৃত্ব দেওয়া সহজ করেছে।
-মীর মোমিন










