দিনে কয় কাপ কফি খাওয়া উচিত

কফি এখন শুধু অভ্যাস নয়, অনেকের কাছে দিনের শুরু কিংবা কাজের ফাঁকে শক্তি ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে কফি যেমন উপকারি, তেমনি অতিরিক্ত হলে ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই পরিমিত মাত্রা জানা জরুরি।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ২ থেকে ৩ কাপ কফি সাধারণত নিরাপদ ও উপকারী। কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪ কাপ পর্যন্ত কফি খাওয়া যেতে পারে, যদি শরীর তা সহ্য করতে পারে। এর মূল কারণ হলো কফির ক্যাফেইন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণকে নিরাপদ ধরা হয়, যা প্রায় ৩–৪ কাপ সাধারণ ব্ল্যাক কফির সমান।

পরিমিত কফি খেলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কফি মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, ক্লান্তি কমায় এবং কাজের গতি বাড়ায়। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। নিয়মিত কিন্তু সীমিত পরিমাণে কফি খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, পারকিনসনস ডিজিজ ও লিভারের কিছু রোগের ঝুঁকি কমতে পারে বলেও গবেষণায় দেখা গেছে।

তবে অতিরিক্ত কফি খেলে সমস্যা শুরু হতে পারে। দিনে ৪–৫ কাপের বেশি কফি খেলে অনিদ্রা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় করা, গ্যাস্ট্রিক, মাথাব্যথা এবং উদ্বেগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে বেশি কফি খাওয়া পেটের জন্য ক্ষতিকর। আবার যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা ঘুমের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে কফির পরিমাণ আরও কম হওয়া উচিত।

গর্ভবতী নারীদের জন্য দিনে ১ থেকে ২ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

সবশেষে বলা যায়, দিনে কয় কাপ কফি খাওয়া উচিত—এর উত্তর সবার জন্য এক নয়। নিজের শরীরের অবস্থা, অভ্যাস ও সহনশীলতা বুঝে পরিমিত কফি খাওয়াই সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত।

-বিথী রানী মণ্ডল