শীতের সকালে হিমেল হাওয়া আর রাতে কনকনে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে আমরা সোয়েটার বা জ্যাকেট পরলেও অনেক সময় পায়ের যত্নে অবহেলা করি। অথচ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পা গরম রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর পা গরম রাখার প্রধান হাতিয়ার হলো একজোড়া জমানো মোজা। তবে মোজা কেবল পরলেই হবে না, এর সঠিক নির্বাচন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে মোজা নিয়ে কিছু কার্যকরী টিপস আজকের ফিচারে:
১. সঠিক উপকরণ নির্বাচন করুন: শীতের জন্য মোজা কেনার সময় কাপড়ের দিকে নজর দিন। সুতি মোজা ঘাম শুষে নিতে পারে না, ফলে পা ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। শীতের তীব্রতা বেশি হলে উল বা পশমি মোজা বেছে নিন। আর যদি দীর্ঘ সময় জুতো পরে থাকতে হয়, তবে মেরিনো উল বা সিন্থেটিক মিশ্রিত মোজা ভালো, যা পায়ের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং পা শুকনা রাখে।
২. সঠিক মাপের গুরুত্ব: খুব টাইট বা খুব ঢিলেঢালা মোজা—দুটোই অস্বস্তিকর। খুব বেশি টাইট মোজা পরলে পায়ে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা পা আরও ঠান্ডা করে দেয়। আবার ঢিলেঢালা মোজা জুতোর ভেতরে কুঁচকে গিয়ে পায়ে ফোস্কা বা ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। তাই মোজা কেনার সময় পায়ের মাপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিনুন।
৩. দুর্গন্ধ এড়াতে পরিচ্ছন্নতা: শীতকালে অনেকেই এক জোড়া মোজা না ধুয়ে বেশ কয়েকদিন ব্যবহার করেন। এটি পায়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। মোজা ঘাম আর মৃত কোষ শুষে নেয়, যা ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আদর্শ জায়গা।
- প্রতিদিন ধোয়া পরিষ্কার মোজা পরুন।
- বাইরে থেকে ফিরে মোজা খুলে পা ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
- মোজা ধোয়ার সময় জীবাণুনাশক লিকুইড ব্যবহার করতে পারেন।
৪. ঘুমানোর সময় মোজা: যাদের পা খুব বেশি ঠান্ডা থাকে, তারা রাতে ঘুমানোর সময় মোজা পরতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন ঘুমানোর মোজা যেন দিনের মোজার চেয়ে একটু পাতলা এবং ঢিলেঢালা হয়। বেশি টাইট মোজা পরে ঘুমালে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এছাড়া ঘুমানোর আগে পায়ে ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন মেখে মোজা পরলে পায়ের গোড়ালি ফাটা রোধ হয়।
৫. জুতোর সাথে মোজার সমন্বয়: অফিস বা ফর্মাল পোশাকের সাথে গাঢ় রঙের মোজা পরুন। স্নিকার্স বা ক্যাজুয়াল জুতোর সাথে অ্যাঙ্কেল লেন্থ মোজা মানানসই। তবে বুট জুতোর ক্ষেত্রে লম্বা এবং একটু মোটা মোজা বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
৬. মোজা শুকানোর সঠিক নিয়ম: শীতকালে রোদ কম থাকায় মোজা ঠিকমতো শুকায় না। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে মোজা পরলে ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। তাই মোজা ধোয়ার পর পর্যাপ্ত বাতাসে শুকিয়ে নিন। প্রয়োজনে ইস্ত্রি করে বাড়তি আর্দ্রতা দূর করতে পারেন।
৭. অতিরিক্ত মোজা সাথে রাখুন: ভ্রমণে বা সারাদিন বাইরে থাকলে ব্যাগে একজোড়া অতিরিক্ত মোজা রাখুন। কোনো কারণে মোজা ভিজে গেলে দ্রুত তা বদলে ফেলুন। কারণ ভেজা মোজা ঠান্ডা লাগার প্রধান কারণ হতে পারে।
শেষ কথা: শীতের ফ্যাশনে মোজা এখন কেবল প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি ব্যক্তিত্বের অংশও বটে। বাহারি রঙের এবং নকশার মোজা আপনার একঘেয়ে শীতের পোশাকেও আনতে পারে নতুনত্বের ছোঁয়া। তবে স্টাইলের চেয়ে পায়ের সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিন।
মনে রাখুন:
- সুতির চেয়ে উল বা ব্লেন্ডেড মোজা বেশি কার্যকর।
- প্রতিদিন মোজা পরিবর্তন করুন।
- পা ঘামার সমস্যা থাকলে জুতোর ভেতরে বেবি ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।
- পা ভেজা অবস্থায় কখনোই মোজা পরবেন না।
সাবিনা নাঈম










