জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গঠিত মামলায় নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বিচারকের প্রশ্নের জবাবে এই দাবি করেন। এর আগে ট্রাইব্যুনাল তাঁর ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলের এক নম্বর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ যখন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি গুরুতর অভিযোগ পড়ে শোনান, তখন এজলাসে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। অভিযোগ পড়া শেষে বিচারপতি পলকের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন— “Do you plead guilty?” (আপনি কি দোষ স্বীকার করছেন?)। জবাবে কাঠগড়া থেকে দাঁড়িয়ে পলক অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়েছে সব মিথ্যা। আমি নির্দোষ।” তিনটি অভিযোগে যা আছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পলক ও জয়ের বিরুদ্ধে যে তিনটি সুনির্দিষ্ট চার্জ বা অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে আদালতের আদেশে:
প্রথম অভিযোগ: ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে পলক ফেসবুকে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন। এর প্রভাবে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলা শুরু হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৮, ১৯ ও ২৪ জুলাই বাড্ডা, উত্তরা ও রামপুরায় ইন্টারনেট বন্ধ করে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের উসকানি। বিশেষ করে ইন্টারনেট বন্ধ করা নিয়ে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে পলকের একটি ফোনালাপের তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগ: ৫ আগস্ট উত্তরায় জাবিদ ইবরাহিম ও শামসুল আলমসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যার দায়। মারণাস্ত্র ব্যবহার ও গণহত্যার প্ররোচনার দায়ে তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই বিচারের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এবং আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনাল তাঁর জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, আজ সকালে কড়া নিরাপত্তায় পলককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিদের অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন খারিজ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর ঘোষণা দেন। মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।