অনলাইন জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং দেশে গৃহযুদ্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠন পিছিয়ে গেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ-৯ এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে এ মামলার চার্জ গঠনের দিন ধার্য ছিল। তবে সব আসামির পক্ষে অব্যাহতির শুনানি শেষ না হওয়ায় আদালত আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন।
আজকের শুনানির জন্য কারাগারে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে ২৫ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী আসামি ছিলেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রাষ্ট্রপক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের হোস্টিংয়ে একটি গোপন জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পলাতক শেখ হাসিনাসহ দেশ-বিদেশের ৫৭৭ জন নেতাকর্মী অংশ নেন।
মূল ষড়যন্ত্র: মিটিংয়ে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়।
গৃহযুদ্ধের হুমকি: আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা দেশে একটি গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর শপথ নেন।
ভয়েস রেকর্ড: সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, অংশগ্রহণকারীরা বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে না দেওয়ার জন্য এবং শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত যুদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে গত ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সব পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন এবং গত ১১ সেপ্টেম্বর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও এই মামলার অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন, পংকজ নাথ, সৈয়দ রুবিনা আক্তার, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, ড. রাব্বি আলম এবং কামরুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কিছু নেতাকর্মী। বর্তমানে কারাগারে থাকা ৩০ জন বাদে বাকি ২৫৬ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।